bangladesh bank

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য

‘রেড জোনে’ ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সময়: রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ ৯:০১:৫২ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে এক ধরনের চাপা অস্থিরতা চলছে। এর কারণ অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে। এরমধ্যে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে ‘রেড জোন’ বা লাল ঘরে অবস্থান করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ (এপ্রিল-জুন) ২০১৯, ১৮তম সংখ্যায় ‘ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি এসেসমেন্ট রিপোর্ট’ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ, সুদ হার, সম্পদ মূল্য ও তারল্য এই চারটি ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ঝুঁকির দিক থেকে নিরাপদ অবস্থান বুঝাতে সবুজ, হলুদ এবং লাল এই তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রান্তিকে মাত্র চারটি ব্যাংক কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সবুজ ঘরে আছে। হলুদ ঘরে রয়েছে ১৮টি এবং লাল ঘরে অবস্থান করছে ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে লাল ঘরে বা রেড জোনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বর্তমানে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির অবস্থান ব্যাখ্যা করা হলেও অবসায়নের জন্য অপেক্ষমান থাকা পিপলস লিজিংয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এটিকে অবসায়নের জন্য রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত সার্বিক চিত্রটি তুলে ধরা হয়। এর বাইরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা পর্যবেক্ষণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই অন্য একটি বিভাগ রয়েছে।
জানা গেছে, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের ঘটনার পর থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত জমার পরিমাণ কমেছে। উল্টো অনেকেই তাদের আমানত তুলে নিতে চাচ্ছে। ফলে আকস্মিক একটি চাপে রয়েছে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল স্টেবিলিটি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে জানান, গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে গড়ে ৪ থেকে ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবস্থান ধরে রেখেছে। বাকি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে হয় হলুদ বা লাল ঘরে অবস্থান করছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে আরও কিছু উন্নতি হবে। এই মুহূর্তে সবাই চাপে আছে। তাদেরকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আহমেদ আলীকে প্রশ্ন করা হলে দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি তিন মাসে একটি ‘ট্রেস টেস্ট’ বা ঝুঁকিসম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। আর্থিক খাতের ‘ট্রেস টেস্ট’ প্রতিবেদন থেকে যেসব তথ্য ওঠে এসেছে। তাতে এটাই প্রমাণিত হয়- আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। বিষয়টি এর আগে প্রকাশ্য ছিল না। কিন্তু পিপলস লিজিংয়ের দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ায় ইতোমধ্যেই গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানে কি কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এত খারাপ পর্যায়ে এসেছে। যারাই ঋণ নিচ্ছে তারা কেউ টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এমনকি কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরাও ঋণ নিয়ে বা বেনামে ঋণ দিয়ে লুটপাট করেছে। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সবাইকে নিয়ে ঋণ খেলাপীদের ক্রিমিনাল ওফেন্স হিসেবে দেখতে হবে। এটি ব্যাংকাররাও তাগিদ দিচ্ছে।
ড. আবু আহমেদ আরও বলেন, আর্থিক খাতের বাস্তব অবস্থা চেপে রাখা যাবে না। কখনো না কখনো প্রকাশ হবেই। এতদিন হয়তো জানলেও কেউ কিছু বলতো না। কিন্তু পিপলস লিজিংয়ের দুর্নীতির কারণে সবাই এখন এ খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৭০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged