bangladesh bank

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন

শিল্পখাতে পুঁজিবাজারের অর্থায়ন নগণ্য

সময়: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৭, ২০১৯ ১২:১৮:২৩ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে এখনো ব্যাংকগুলোই মূল ভূমিকা পালন করছে। অথচ পুঁজিবাজার থেকেই এ অর্থায়ন হওয়া উচিত ছিল। এজন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বুধবার প্রকাশিত পুঁজিবাজার বিষয়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ জুলাই-সেপ্টেম্বর-২০১৯-এর পর্যালোচনায় বিষয়টি ওঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার সাধারণত উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখনো উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে ব্যাংক থেকে। এজন্য বিভিন্ন ধরণের ‘ফাইনান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট’ চালুর প্রস্তাব করা হযেছে। সুকুক বন্ড, বিভিন্ন বন্ড ও ডিভেঞ্চার চালু করা যেতে পারে।
এছাড়া দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের দেশের পুঁজিবাজারে আনতে হলে নানা ধরণের বিনিয়োগ মাধ্যম লাগবে। এজন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) উদ্যোগী হয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে করপোরেট গভর্ননেন্স নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজারই ছিল নেতিবাচক ধারায়। এ সময় বাজার মূলধনের মাত্র ০.৮৯ শতাংশ ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবস্থান। অথচ পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডই মূল মার্কেট মেকারের ভূমিকা পালন করে। বাজার মূলধনে করপোরেট বন্ড ০.০৭ এবং ডিভেঞ্চার ০.০২ শতাংশ। ব্যাংক খাতের ১৫.০২, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৫.১৭, বীমা ৩.০২ এবং অন্যান্য কোম্পানি ৬১.১৪ শতাংশ রয়েছে বাজার মূলধনে।
তবে বাজারের সার্বিক পিই রেশিও (মূল্য ও আয়ের অনুপাত) কমেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ সময় বাজার অনেকটা কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পিই ছিল ১৩.৩৫। ফলে এটিই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সঠিক সময়।
এদিকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের তুলনায় দেশের পুঁজিবাজারের পিই অনেক কম। থাইল্যান্ডের পিই রেশিও ১৮.৭২, ভারতে ২৩.৯৭, শ্রীলঙ্কা ১০.১৮।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের প্রধান স্থান হলো পুঁজিবাজার। কিন্তু এখনো এ পক্রিয়ায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা আসছে না। কারণ তারা সব সময় ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতেই পছন্দ করে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক নাজমুন নাহার মিলি শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, পুঁজিবাজারের সার্বিক সূচকগুলো অনেকটাই নেতিবাচক। উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩২৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged