editorial

১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় ব্রোকারেজ হাউজগুলো

শুধু ‘সহায়তা তহবিলে’ই কি গতি ফিরবে পুঁজিবাজারের?

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৯ ৬:১৪:৪৪ অপরাহ্ণ


স্বল্প সুদে তারল্য যোগানের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সঙ্কট তথা দীর্ঘদিনের মন্দাবস্থা কাটিয়ে ওঠতে সরকারের কাছে নতুন করে ‘পুঁজিবাজার সহায়তা তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্রোকারেজ হাউজের মালিকরা। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রস্তাবে ছয় বছর মেয়াদে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন এবং মাত্র ৩ শতাংশ সুদে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঋণ সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত: ইতোপূর্বে ২০১৬ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত-এর বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল ‘বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন’ (বিএমবিএ)। কিন্তু সেই তহবিল গঠন করা হয়নি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের সাময়িক সঙ্কট কিংবা তারল্য সঙ্কট দুরীকরণে ‘পুঁজিবাজার সহায়তা তহবিল’ গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি পুঁজিবাজার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র ওপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে; বাজারে সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাই মূল কাজ।
জানা যায়, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে গত ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ‘ঢাকা স্টক একচেঞ্জ’ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ শতাংশ বা ১ হাজার ২৪২ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বা ৬৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এহেন বাজার পরিস্থিতিতে প্রান্তিক ঋণ বা মার্জিন লোনের কারণে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছেন ঋণগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এমতাবস্থায় বাজার স্থিতিশীলকরণে ‘পুঁজিবাজার সহায়তা তহবিল’ শীর্ষক ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

Share
নিউজটি ২৬৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged