শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রতাহার

সময়: Thursday, April 8th, 2021 11:07:33 am

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ৬৬টি কোম্পানি থেকে ফ্লোর প্রাইসের (পতনের সর্বনিম্ন সীমা) নির্দেশনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ৭৬৯তম নিয়মিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা আগামিকাল থেকে কার্যকর হবে।
বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৬৬টি কোম্পানি থেকে ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হল। যা গতবছরের ১৯ মার্চ করোনা মহামারির কবলে পতনরোধে দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, বর্তমানে ১১০টি কোম্পানি সিকিউরিটিজ ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে। এরমধ্যে ৬৬টি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সম্ভবত ২ ধাপে ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা তুলে নেওয়া হবে।

কমিশনের এই নির্দেশনার ফলে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা শেয়ারগুলোর লেনদেন শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। এরআগে দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারগুলোর কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে।

ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে- পিপলস লিজিং, আরএন স্পিনি, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড, আইএফআইএল ১ম মি. ফান্ড, অলিম্পিক এক্সেসরিস, রিংসাইন টেক্সটাইল, জাহিন স্পিনিং, নূরাণী ডায়িং, ডিবিএইচ ১ম মি. ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মি. ফান্ড, রিজেন্ট টেক্সটাইল, ইভিন্স টেক্সটাইল, এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, কাট্টলি টেক্সটাইল, মেট্রো স্পিনিং, প্যাসিফিক ডেনিমস, ফার কেমিক্যাল, দেশ বন্ধু পলিমার, ইয়াকিন পলিমার, ওয়েস্টার্ন মেরিন, সাফকো স্পিনিং, সেন্ট্রাল ফার্মা, বিচ হ্যাচারি, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, সায়হাম কটন, প্রাইম টেক্সটাইল, হামিদ ফেব্রিক্স, বিডি বিল্ডিং সিস্টেম, বেঙ্গল থার্মো প্লাস্টিক, এএফসি এগ্রো বায়োটেক, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো লি:, সিলকো ফার্মা, খুলনা প্রিন্টিং, ইন্দোবাংলা ফার্মা, কপারটেক, আরগন ডেনিমস্, এস্কোয়ার নিট, শাশা ডেনিম্স, সুরিদ ইন্ডান্ট্রিজ লিমিটেড, ভিএফএস টেক্সটাইল, আইপিডিসি, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, আরএসআরএম স্টিল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, অ্যাডভান্ট ফার্মা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ওইমেক্স, রূপালী ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, সোনারগাঁ টেক্স, গ্লোবাল হেভী কেমিক্যাল, আলিফ ইন্ডস্ট্রিজ, ডেসকো, নাভানা সিএনজি, ইউনিক হোটেল, উত্তরা ফাইন্যান্স, উসমানিয়া গ্লাস, সিনোবাংলা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এমএল ডায়িং, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, খুলনা পাওয়ার, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, দুলামিয়া কটন এবং ফারইস্ট ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দর নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সোমবার (০১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে বিএসইসি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু করলে রেকর্ড ডেটের পরবর্তী দরকে সংশোধীত ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দর) হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হবে।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ৭৬১তম নিয়মিত সভায় ঘোষিত বোনাস ও রাইট শেয়ার সমন্বয় পরবর্তী দরকে সংশোধীত ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন দর) হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এতোদিন ফ্লোর প্রাইসের কারণে বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে ঠিকমতো সমন্বয় হতো না। কারণ এই ফ্লোরের কারনে বোনাস বা রাইট ইস্যু করা হলেও তা সমন্বয়ের মাধ্যমে কমার সুযোগ ছিল না। তবে সেই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে বোনাস ও রাইট শেয়ার পরবর্তী সমন্বিত দরকে সংশোধীত ফ্লোর প্রাইস বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বোনাস ও রাইট শেয়ার ঘোষণার রেকর্ড ডেট পরবর্তী ডাইলুশন প্রভাব বিবেচনায় কোম্পানির সমন্বিত মূল্য সংশোধিত ফ্লোর প্রাইস হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফ্লোর প্রাইস কি- ধরা যাক একটা শেয়ারের দাম ১০০ টাকা, ফ্লোর প্রাইস রয়েছে ৯৫ টাকা। এখন ১০ শতাংশ বোনাস দেওয়ায় কোম্পানিটির থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর দর দাঁড়ালো ৯০ টাকা। তখন কোম্পানিটির পরবর্তী ফ্লোর প্রাইস দাঁড়াবে ৯০ টাকা।
আবার কোন কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০০ টাকা, ফ্লোর প্রাইস রয়েছে ৮৫ টাকা। এখন ১০ শতাংশ বোনাস দেওয়ায় কোম্পানিটির থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর দর দাঁড়ালো ৯০ টাকা। তখন কোম্পানিটির পরবর্তী ফ্লোর প্রাইস দাঁড়াবে ৮৫ টাকা।
অর্থাৎ বোনাস লভ্যাংশ বা রাইট শেয়ার ইস্যুতে থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর যে দর নির্ধারণ হবে তা যদি ফ্লোর প্রাইস অতিক্রম করে তাহলে পূর্বের ফ্লোর প্রাইসই বজায় থাকবে। অন্যদিকে বোনাস শেয়ার বা রাইট শেয়ার ইস্যুতে থিউরিটিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর যে দর নির্ধারণ হবে তা যদি ফ্লোর প্রাইস থেকে কম হয় তাহলে কম দরটিই নতুন ফ্লোর প্রাইস হিসেবে বিবেচিত হবে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

নিউজটি ৩২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged