editorial

শেয়ারবাজারের জন্য সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ ১২:১৮:১৬ পূর্বাহ্ণ


শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টগণ অনেক দিন ধরেই বাজারে বিদ্যমান তারল্য সঙ্কট নিযে কথা বলছিলেন। তারা দাবী করছিলেন, এ মুহূর্তে বাজারের তারল্য সঙ্কট কাটানোর জন্য অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সঞ্চালন করা প্রয়োজন। তারা আরো বলছিলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল পেলে তাদের পক্ষে বাজারে আরো ভালোভাবে অংশ গ্রহণ করা সম্ভব। এতে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। অবশেষ তাদের সেই দাবী পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে ব্যবসায়রত ৫৯টি তফসিলি ব্যাংকের প্রত্যেকটিকে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের অনুমতি দিয়েছে। এতে বাজারে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার মতো বর্ধিত তারল্য সৃষ্টি হবে। এ সংক্রান্ত একটি তহবিল গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ শতাংশ সুদ হারে এই পুঁজি যোগান দেবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকসমূহ ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে কোনো সময় রেপোর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার সীমার মধ্যে যে কোনো পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। রেপোর সুদের হার হবে ৫ শতাংশ এবং এ জন্য কোনো অকশনে যেতে হবে না। শেয়ারবাজারে এই বর্ধিত বিনিয়োগের জন্য বেশ কিছু নীতিগত ছাড় দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা সরকারের নিকট যা চেয়েছি তার চেয়েও বেশি পেয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সিডিউল ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারের জন্য যে বিশেষ ফান্ড গঠনের অনুমতি দিয়েছেÑ তা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে উন্নয়নের জন্য অন্তত ৬টি নির্দেশনা প্রদান করেন। বাজার সংশ্লিষ্টগণ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সঠিক ভাবে পালিত হলে দেশের শেয়ারবাজারে গতিশীলতা ফিরে আসবে। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো এবং তারল্য সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী ইতোপূর্বে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতের ৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪টি ব্যাংকের ২৫ শতাংশ শেয়ার আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই বাজারে নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে বাজারে আছে এমন একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ১০ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে আরো ১৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে নিয়ে আসা হবে। পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে ভালো শেয়ারের যোগান বাড়বে এবং বাজার স্থিতিশীলতা হবে। বাজার সংশ্লিষ্টরা শেয়ারবাজারের উন্নয়নে যা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক তার অনেকটাই পূরণ করেছে। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে বাজার কাঙ্খিত মাত্রায় গতি লাভ করে কিনা। একই সঙ্গে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরে আসে কিনা? পৃথিবীব্যাপীই শেয়ারবাজার হচ্ছে একটি অনিশ্চিত বিনিয়োগ ক্ষেত্র। এখানে বিনিয়োগ করলে যেমন লাভের সম্ভাবনা আছে তেমনি লোকসানের আশঙ্কাও কম নয়। কিন্তু আমাদের দেশের শেয়ারবাজার যেভাবে বিনা কারণেই উত্থান-পতন ঘটে পৃথিবীর খুব কম দেশেই তেমনটি লক্ষ্য করা যায়। শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল এবং গতি বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরো কার্যকর এবং স্বচ্ছ করতে হবে। আর বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হতে হবে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগের কলা-কৌশল জানতে হবে। হুজুগে বিনিয়োগ করা যেমন ঠিক নয় তেমনি কোনো কারণে সাময়িক সঙ্কট সৃষ্টি হলেই শেয়ারবাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। আর বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল দিকগুলো কেমন তা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।

Share
নিউজটি ৩৫৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged