editorial

শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়ত্ব ৪ ব্যাংক

সময়: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ ১২:৪০:৩৩ পূর্বাহ্ণ


দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন এর গতকালের সংখ্যায় প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪টি ব্যাংকের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসা হবে বলে কর্তৃপক্ষীয় পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অর্থমন্ত্র আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় বলা হয়, দেশের শেয়ারবাজারে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারের অভার পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে মাঝে মাঝেই বাজারে ব্যাপক দর পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১৬ জানুয়ারি শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে বাজারের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভালো মানের শেয়ারের যোগান বাড়ানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৬টি নির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪টি ব্যাংকের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্যাংক ৪টি হচ্ছে,বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক লিমেটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এসব ব্যাংকের ২৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। এছাড়া আগে থেকেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের আরো ১৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। বর্তমানে এই ব্যাংকের ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে রয়েছে। ইতোপূর্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লাভজনক ৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের আগের আমলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার জন্য একাধিকবার ঘোষণা দেয়া সত্বেও শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে আসেনি। কিন্তু এবার যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছেন তাই মনে হচ্ছে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার এবার ঠিকই বাজারে আসবে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তা যে কোনো বিচারেই ইতিবাচক। কারণ বাজারে ভালো মানের শেয়ারের প্রচন্ড অভাব রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা চাইলেই সম্ভাবনাময় কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। স্থানীয় শেয়ার বাজারে মাঝে মাঝেই কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বড় ধরনের উত্থান-পতন ঘটছে। এই অবস্থায় দেশের বড় বড় শিল্পগুলো শেয়ার বাজারে আসার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদি শিল্প বিনিয়োগের জন্য সাধারণত শেয়ার বাজারের উপরই নির্ভর করা হয়। তারা কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে স্থাপনের সময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছেড়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে তাদের ব্যাংক নির্ভর হতে হয় না। আর সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও স্বল্প পুঁজি নিয়ে একটি বড় কোম্পানির গর্বিত অংশীদার হতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ সংকুলানের ক্ষেত্রে শেয়ার বাজার তেমন একটা ভূমিকা পালন করতে পারছে না। ব্যাংকিং সেক্টরে বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে আগামীতে এই সেক্টর থেকে শিল্পের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পুঁজি সংগ্রহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। তাই সেই অবস্থায় ইচ্ছায়ই আর অনিচ্ছায়ই হোক আমাদের শেয়ার বাজারের উপর নির্ভর করতেই হবে। কাজেই আমাদের এমনভাবে শেয়ার বাজারকে গড়ে তুলতে হবে যাতে এই খাতটি সময়ের প্রয়োজন মেটানোর মতো অবস্থায় থাকে। আমাদের দেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সংস্কার করে সময়ের উপযোগি করে গড়ে তুলতে হবে। অনেকেই মনে করেন, শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এক শ্রেণির কর্মকর্তা আছেন যারা নানাভাবে শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করার কাজে ব্যস্ত আছেন। আমরা এই অভিযোগ বিশ্বাস করতে চাই না। তারপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগত সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। কথায় বলে, ‘পেছনে শত্রু রেখে যুদ্ধ যাত্রা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’ তাই শেয়ার বাজার চাঙ্গা এবং স্থিতিশীল করতে হলে প্রথমেই নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারীর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

Share
নিউজটি ৩৮১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged