editorial

শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার হচ্ছে না

সময়: শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ ৬:৪১:৩৪ অপরাহ্ণ


সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে অধিকাংশ কোম্পানির দরপতন অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা হলেও হতাশা বিরাজ করছিল। নানাভাবে চেষ্টা করেও শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিল না। এমন অবস্থায় বহুল প্রচারিত একটি খবর, যা গুজব বলেই মনে হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। বাজারে খবর ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয় বাজারে যে সব বিদেশি বিনিয়োগকারী আছেন তারা বাজারের দুরবস্থা দৃষ্টে পুঁজি প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছেন। কারণ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের সংবাদটি অত্যন্ত উদ্বেগের সৃষ্টি করে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কোনো দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার আগে অনেক ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা আমাদের দেশের এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর মতো হুজুগে বিনিয়োগ করে না। তারা বাজার বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারেন কোন্ বাজারে বিনিয়োগ করা যাবে আর কোথায় যাবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বাজারের অবস্থা হবে সে সম্পর্কে সঠিক পূর্বাভাষ দিতে পারেন। এই অবস্থায় প্রচারিত খবরটি নিশ্চিতভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু জানা গেছে, প্রচরিত খবরটি নিছক গুজব বৈ কিছু নয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’র (বিএসইসি) সঙ্গে গত ১৫ জানুয়ারি বৈঠককালে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতৃবৃন্দ এ মর্মে নিশ্চিত করেছেন, এই মুহূর্তে বিদশি বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহারের কোনো আশঙ্কা নেই। বরং অদূর ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্ধিত আকারে বিনিয়োগ করবে। বাজারে যে খবর রটেছে- তা সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত এবং গুজব মাত্র। এই গুজব কে বা কারা রটাচ্ছেন এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কিনা তা খুঁজে বের করা দরকার। কারণ পুঁজিবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সেক্টর। এখানে সামান্যতম গুজব মারাত্মক ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে এ মুহূর্তে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করবে না তা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কোনো দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য। তারা বরং শেয়ারের দর কমলে আরো বেশি পরিমাণে শেয়ার ক্রয় করতে পারে। বর্তমানে বাজার উন্নয়নের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকারও বাজার উন্নয়নে সার্বিক সহায়তা দানের আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত লাভজনক। বিশ্বের খুব দেশই আছে যেখানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের মতো এত বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়। তাই পুঁজিবাজার নিয়ে এ মুহূর্তে হতাশ হবার কোনোই কারণ নেই।

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সার্বিক সহায়তা দেবে কেনদ্রীয় ব্যাংক
দেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। প্রায় প্রতিদিনই দরপতন ঘটছে। অনেক কোম্পানির শেয়ার অভিহিত মূল্যের নিচে বিক্রি হচ্ছে। বাজারের এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থার ভাব সৃষ্টিতে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ‘দৈনিক শেযারবাজার প্রতিদিন’ এ গতকাল এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে এটা পরিস্কার হয়েছে যে,শেয়ার বাজারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোটেও উদাসীন নয়। তারা বাজার উন্নয়নে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছেন। গতকাল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে আলোচনার এক পর্যায়ে দেশের শেয়ারবাজারের নিয়ে কথা হয়। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি তাদের বলেন,বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত আছেন। তারা বাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন। ইতোপূর্বে ব্যবসায়ী সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজনের নিকট থেকে শেয়ারবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে যে সব সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় যেটি সর্বোত্তম প্রস্তাব বলে বিবেচিত হবে সেটাই গ্রহণ করা হবে। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জানানো হয়,বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের অভাব এবং বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাই বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলকে এ মর্মে নিশ্চিত করেন যে, তারা শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে গত কাল মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন(বিএমবিএ) এর একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে দেখা করে শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা তাকে অবহিত করেন। এ সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে প্রতিনিধি দলকে জানানো হয় যে,তারা ইতোমধ্যেই শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ৪ ব্যাংককে পুঁজি বাজারে বর্ধিত হারে বিনিয়োগের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজার বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। এতে শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট কিছুটা হলেও কেটে যাবে। বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজার নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করছে এটা খুবই ভালো একটি খবর। আমরা এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা আশা করছি,এসব পদক্ষেপের ফলে বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আস্থাশীল হবেন। বাজার আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের মনে রাখতে হবে,শেয়ার বাজার দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংগ। একে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই দেশের সত্যিকার এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সরকারিভাবে অ্যাকচুয়ারি তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানাই
স্থানীয়ভাবে অ্যাকচুয়ারি সেবাদানকারির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি(আইডিআরএ) খুব সহসাই উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। বিলম্বে হলেও এ ধরনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করায় কর্তৃপক্ষকে আমরা অভিনন্দন জানাই। দেশে প্রচুর সংখ্যাক বীমা কোম্পানি থাকা সত্বেও এতদিন স্থানীয়ভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকচুয়ারি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়নি। একজন অ্যাকচুয়ারি বীমা কোম্পানির সম্পদ ও দায় নিরূপনের পাশাপাশি জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কোম্পানির জন্য পলিসি ডিজাইন করে থাকেন। কাজেই বীমা কোম্পানির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে অ্যাকচুয়ারিগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যাকচুয়ারি না থাকার কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও দায় নিরূপনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা দূরীকরণের জন্যই মূলত এ ধরনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা বর্তমানে ৩২টি হলেও তাদের সম্পদ ও দায় নিরূপনের জন্য দেশে অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো অ্যাকচুয়ারি নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত একজন অ্যাসোসিয়েট অ্যাকচুয়ারি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলো। এছাড়া দেশে আরও দুজন পূর্নাঙ্গ অ্যাকচুয়ারি থাকলেও তারা এ কাজের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত নন।এই অবস্থায় বিদেশি বেশ কিছু কোম্পানি অ্যাকচুয়ারিয়াল সেবা দেবার জন্য দেশের বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। কিন্তু বিদেশি অ্যাকচুয়ারিদের এই তৎপরতা ভালো চোখে দেখছে না ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি। তারা মনে করছেন, উদ্যোগ নিলে স্থানীয়ভাবেই অ্যাকচুয়ারি তৈরি করা সম্ভব। এতে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোকে সেবা দানের ক্ষেত্রে যেমন সুবিধা হবে তেমনি এই খাতে বিদেশিদের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে না। তারা এ জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সূত্র মতে, দেশের এক একটি বীমা কোম্পানির ভ্যালুয়েশনের জন্য একজন অ্যাকচুয়ারি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। ক্ষেত্র বিশেষে এই অর্থের পরিমাণ আরো বেশিও হয়ে থাকে।
দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। এই অবস্থায় ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি স্থানীয়ভাবে অ্যাকচুয়ারি তৈরির জন্য যে দীর্ঘ মেয়াদি নিতে যাচ্ছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগি একটি পদক্ষেপ। আমরা এই পদক্ষেপের সফলতা কামনা করি।

ইউএমপি রেট পুন:নির্ধারণের প্রস্তাব বিবেচনা করুন
বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ধার্যকৃত মেইউনিফাইড মেসেজিং প্লাটফর্ম(ইউএমপি) হার পুন:নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’ এ এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি(আইডিআরএ) প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পলিসি প্রতি ৫ টাকা করে ইউএমপি পরিশোধের নির্দেশ দেয়। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন(বিআইএ) একাধিক চিঠি দিয়ে ইউএমপি রেট পুন:নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছিল। বিআইএ তাদের পত্রে ইউএমপি হার ৫ টাকার পরিবর্তে ৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। কারণ এই মুহূর্তে দেশের বীমা খাতের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু আইডিআরএ বাংলাদেশ বীমা অ্যাসোসিয়েশনের সেই প্রস্তাবকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর এক নির্দেশনায় বীমা কোম্পানিগুলোকে পরবর্তী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে ইউএমপি বাবদ ৫ টাকা করে পরিশোধের জন্য দেশের সব বীমা কোম্পানিকে নির্দেশনা প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে বিআইএ একটি পত্রের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পূর্বে ইউএমপি বাবদ ধার্যকৃত ৫টাকা করে পরিশোধের নির্দেশনা স্থগিত রাখার জন্য আইডিআরএ’কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছে। বিআইএ চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন প্রসঙ্গক্রমে বলেন, আমরা ইউএমপি পরিশোধে রাজী আছি। তবে পলিসি প্রতি ৫ টাক হারে এটা নির্ধারণ করা হলে তা পরিশোধ করা অনেক কোম্পানির পক্ষেই অসুবিধা হবে। কারণ বীমা ব্যবসায় বর্তমান খুব একটা ভালো চলছে না। তাই আমরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় জন্য আইডিআরএ’কে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন,আমরা প্রয়োজনে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে সম্মত আছি। উল্লেখ্য,উন্নত গ্রহাক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আইডিআরএ গত বছর ২৮ জানুয়ারি দেশে ব্যবসায়রত সব বীমা কোম্পানিকে ইউএমপি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বছরে ২০ কোটি টাকা ফি পাবে। এর মধ্যে একটি অংশ ইউএমপি বাস্তবায়নকারি সংস্থাকে সার্ভিস চার্জ বাবদ দিতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গেলে বীমা কোম্পানিগুলোর অপারেটিং কস্ট কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বীমা ব্যবসায়ের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে আরো চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। যেহেতু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নতুন তাই এ ব্যাপারে আরো গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে।
আমরা মনে করি, আইডিআরএ এবং বিআইএ কর্র্তৃপক্ষ এক টেবিলে বসে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে উভয় পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে উপনীত হতে পারবে। এটা করা হলে উভয় পক্ষের জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে।

১। আমি মনে করি প্রতিষ্ঠানটি বাঁচানোর জন্য অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন ও দক্ষ পরিচালক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।
২। বাজারে আমাদের সম্পর্কে যে ভ্রান্ত ধারনা প্রচলিত আছে তা অডিট রিপোর্ট এলেই পরিস্কার হয়ে যাবে। চেয়ারম্যান মহোদয় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রহমান কেমিক্যালস লিমিটেড ও নর্দার্ন জুটের চেয়ারম্যান তাই তিনি চাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যে কোনো মূল্যেই সচল থাকুক। কারণ প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে হাজার হাজার কর্মীর ভাগ্য জড়িত। এ ছাড়া শত শত বিনিয়োগকারির ভাগ্য সংম্পৃক্ত তাই আমরা চাই প্রতিষ্ঠানটি যেনো বন্ধ করা না হয়।
৩। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে খেলাপি ঋণভারে জর্জরিত। এই ঋণের বেশির ভাগই প্রাক্তন পরিচালকদের নিকট আটকে আছে।
৪। অডিট প্রতিষ্ঠান একনাবিন বেশ ভালো একটি প্রতিষ্ঠান। তারা আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে একই সঙ্গে তিন বছরের কার্যক্রম অডিট করা হচ্ছে মূলত এ কারণেই কিছুটা বেশি সময় লাগছে। এক বছরের কার্যক্রম অডিট করতে তিন মাসের মতো সময় প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে তিন বছরের কার্যক্রম অডিট করতে কিছুটা বেশি সময় লাগছে।
৫। আমি ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছি। আমি স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। মৃত্যুর পূর্বে হলেও আমি দেশ ও জাতির জন্য কিছু করে যেতে চাই। বিদেশে আমার কোনো সেকেন্ড হোম নেই। ২০১৮ সালে একবার ৭ দিনের এক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেয়ার জন্য লন্ডন গিয়েছিলাম নিজের খরচে। আমি সাধারণ আমানতকারিদের স্বার্থ চিন্তা করে কোম্পানি থেকে কোনো গাড়ি গ্রহণ করিনি।

সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার টেকসই করতে হবে
নতুন পঞ্জিকা বছরে ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে সুদের হার সিঙ্ঘেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ। ১ জানুয়ারি থেকে উৎপাদনশীল খাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে(১০ শতাংশের নিচে) নামিয়ে আনার কথা ছিল। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে শুধু উৎপাদনশীল খাতে নয় সব ধরনের ঋণের সুদের হারই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংক মালিকগণ আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার এই উদ্যোগ দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। কারণ বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণের সুদের হার অত্যন্ত বেশি। বিশ্বে খুব কম দেশই আছে যেখানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাংলাদেশের মতো এত বেশি। ব্যাঙক ঋণের সুদের হার অস্বাভাবিক বেশি হবার কারণে ব্যবসায়-বাণিজ্যের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্য ও সেবা উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রতিযোগিতায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাগণ ধীর্ঘ দিন ধরেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। সরকার সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলে থাকেন,মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজারই স্থির করবে সুদের হার কত হবে। এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এটাও সত্যি যে মুক্তবাজার অর্থনীতি যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোর ঋণের উপর আরোপিত সুদের হার কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাই সরকারকে এখানে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার কেনো এত বেশি তার কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, প্রতিটি ব্যাংকেরই অপারেটিং কস্ট এবং বাহুল্য খরচ অনেক বেশি। ফলে তারা চাইলেও ঋণের সুদের হার কমাতে পারছেন না। অপারেটিং কস্ট এবং বাহুল্য খরচ বেশি হবার কারণে সার্বিকভাবে কস্ট অব ফান্ড অনেক বেশি। বর্তমানে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ড সোয়া ৮ শতাংশ হতে সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি। এই অবস্থায় ব্যাংকের অপারেটিং কস্ট এবং কস্ট অব ফান্ড যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনার ব্যবস্থা না করলে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে ব্যবসায়-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির করতে হলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। বিশিষ্ট উদ্যোক্তা উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. মো: মাহবুব আলী দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন- এর সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন,ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে এটা টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রথমেই ব্যাংকগুলোর অপারেটিং কস্ট কমিযে আনতে হবে। তিনি প্রসঙ্গত বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদাহরণ দেন। বেসিক ব্যাংক যেভাবে তাদের কস্ট কার্টেল করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এই উদাহরণ অনুসরণ করতে পারে।
বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার পর যাতে কোনো ধরনের হিডেন চার্জ আরোপ করে ঋণ গ্রহণকে ব্যয়বহুল করে তুলতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নজরদারি করতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এটা যাতে টেকসই হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

(অপ্রকাশিত সম্পাদকীয়)
উদীয়মান বাজারের উপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার
একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলেছেন, গত কয়েক বছরের মন্তর প্রবৃদ্ধির পর এ বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে। গত বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ২দশমিক ৪শতাংশ। এবার তা দশমিক এক শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টি প্রায় সম্পূর্ণরূপেই নির্ভর করছে এ বছর উদায়মান অর্থনীতির দেশগুলোর পারফর্মেন্স কেমন হবে তার উপর। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছরে তুলনায় সামান্য পরিমাণ হলেও বাড়বে। কারণ গত বছর(২০১৯) উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকলেও এবার তারা কিছুটা হলেও সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ইরান-মার্কিন সামরিক সংঘাত যদি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পথে না যায় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধারনার চেয়েও বেশি মন্থর হয়ে পড়তে পারে। সেই অবস্থার এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিকে নিশ্চিতভাবেই পড়বে। তবে উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশ যদি কাঙ্খিত মাত্রায় বা তারও বেশি মাত্রায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে তাহলে অপ্রত্যাশিত অবস্থার সৃষ্টি নাও হতে পারে। গত বছরের মন্থর প্রবৃদ্ধির পর এ বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা হলেও গতি লাভ করবে বলে বিশ্বব্যাংক তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এ বছর কিছুটা বাড়বে। এভাবে আগামী কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকবে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। সাম্প্রতিক কালের দুর্বলতা কাটিয়ে এ বছর ব্রাজিলের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। মেক্সিকো এবং তুরস্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত থাকবে। কিন্তু শঙ্কা দেখা দিয়েছে চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে। তাদের মধ্যে সৃষ্ট বাণিজ্য বিরোধ নিকট ভবিষ্যতে সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না। যদিও কোনো কোনো মহল থেকে বলা হচ্ছে দেশ দু’টি তাদের নিজেদের স্বার্থেই বাণিজ্য বিরোধ থেকে সরে আসতে পারে। কেউ কেউ এটাও আশা করছেন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নানামুখি সমস্যায় পতিত হয়েছে। তারা তাই নিজেদের স্বার্থেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ মিটেয়ে ফেলবে। যদি সেটা হয় তাহলে খুবই ভালো। আর তা না হলে বিশ্ববাসীকে একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা প্রত্যক্ষ করার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে বিশ্ব এখন অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধ জনিত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা কি বার্তা নিয়ে এসেছে? এটা আমাদের অর্থনীতির উপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে? বাংলাদেশের কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ ২০০৭-২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার উদাহরণ টেনে বলতে চাইছেন,সেই সময় যেহেতু আমাদের অর্থনীতির উপর মন্দার প্রভাব তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এবারের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবও তেমন একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। কিন্তু এই ধারনা প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নেয়া যায় না। কারণ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশির ভাগ সূচক নিম্নগামি হয়েছে। অর্থ বছরের প্রথম ৬মাসের রপ্তানি আয় গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। একমাত্র রেমিটেন্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখি ধারায় রয়েছে। কিন্তু এটাও যে কোনো মুহূর্তে গতি হারাতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই ভালো। কাজেই দেশ দু’টির বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব আমাদের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রভাবিত হবেই। তাই আমাদের এখন থেকেই নতুন নতুন রপ্তানি গন্তব্য খুঁজে বের করতে হবে।

মন্দাবাজারে ওয়ালটনের আইপিও: বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যেনো ক্ষুন্ন না হয়
দেশের শেয়ারবাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানের শেয়ারের অভাব পরিলক্ষিত হয়। মূলত সেই কারণেই বাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। বাজার বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বাজারের প্রতি এক ধরনের আস্থাহীনতার কারণে স্থানীয় উদ্যোক্তাগণ তাদের কোম্পানির শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তেমন একটা আগ্রহ প্রদর্শন করছেন না। আর এটা সত্যি যে স্থানীয় কোম্পানির শেয়ার যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে না আসে তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারিরা তাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে উৎসাহী হন না। বাজারে ভালো কোম্পানির পর্যাপ্ত পরিমাণ শেয়ার না থাকায় চাহিদা এবং যোগানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। এই সুযোগে মহল বিশেষ বাজার নিয়ে নানা ধরনের খেলায় মেতে উঠে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার সম্পর্কে অত্যন্ত উৎসাহী। তারা বিনিয়োগ করতে চান কিন্তু বাজার পরিস্থিতি তাদের জন্য আস্থা সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলে অনেক কোম্পানির শেয়ারই অভিহিত মূল্যের নিচে বিক্রি হচ্ছে। এই যখন অবস্থা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুসংবাদ নিয়ে এসেছে একটি ইতিবাচক খবর। দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন এ প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, অচিরেই দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ওয়ালটন তাদের কোম্পানির শেয়ার বাজারে নিয়ে আসছে। ইতোমধ্যেই কোম্পানিটি তাদের আইপিও বিডিং এর অনুমোদন পেয়েছে। ওয়ালটন আইপিও’র মাধ্যমে বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কিন্তু অনেকেই বলছেন, মন্দাবাজারে আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ওয়ালটন সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ বর্তমান বাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই অবস্থায় কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ইতোপূর্বে দেশের কয়েকটি বড় বড় কোম্পানির তাদরে শেয়ার বাজারে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের শেয়ার বাজারে বিক্রি হচ্ছে কাট অফ প্রাইসের চেয়েও কম মূল্যে। যেমন,পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড ২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের কাট অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়েছিল ৮০ টাকা। কোম্পানির অফার প্রাইস ছিল ৭২ টাকা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই মূল্যেই শেয়ার ক্রয় করেছে। গত বুধবার এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ টাকায়। অর্থাৎ কোম্পানির শেয়ারের অফার প্রাইসের চেয়ে প্রতিটি শেয়ার ২৮ টানা নিচে লেনদেন হয়েছে। একই ভাবে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড বাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। তাদের কাট অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়েছিল ৭৫ টাকা এবং অফার প্রাইস ছিল ৬৭ টাকা। গত বুধবার এই কোম্পানির শেয়ার বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ৫৫ টাকা ৪০ পয়সায়। আরো কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থাও একই রকম।
এমনি এক অবস্থায় ওয়ালটনের আইপিও বাজারে আসতে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকগণ এ কারণেই কিছুটা উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন,মন্দা বাজারের সুযোগ নিয়ে মহল বিশেষ এই কোম্পানির শেয়ার নিয়ে নোংড়া খেলায় মেতে উঠতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যাতে কোনোভাবেই ক্ষুন্ন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের বড় বড় কোম্পানি তাদের শেয়ার নিয়ে বাজারে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

Share
নিউজটি ৭৯৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged