editorial

সংগৃহীত আমানতের তুলনায় কম ঋণ প্রদান শুভ লক্ষণ নয়

সময়: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ ১২:২৬:১৫ পূর্বাহ্ণ


গ্রামাঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সিডিউল ব্যাংকগুলোকে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করার অনুমতি প্রদান করে। এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হবার ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত স্বল্প পরিশ্রমে এবং বিনা হয়রানিতে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছেন। মূলত এ কারণেই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুত বিস্তার লাভ করে। অনেক গ্রামেই এখন ব্যাংকিং সেবা প্রত্যাশীতের শহরে আসতে হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে এজেন্টের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যা ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৬টি। এক বছর আগেও এ সংখ্যাটি ছিল ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হিসাব খোলার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১৪ শতাংশ। তবে এর বেশিরভাগ হিসাবই খোলা হয়েছে মাত্র পাঁচ ব্যাংকে। এ সেবায় ২০ লাখ ৮ হাজার গ্রাহক তৈরি করে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এরপরই ব্যাংক এশিয়ার অবস্থান। তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১৯ লাখ ১৬ হাজার। সেবাটি চালুর অল্প দিনেই ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার গ্রাহক। আর শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের সেবার হিসাব খোলা হয়েছে প্রায় ৫ গুণ বেশি। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, ব্যাংকিং সেবা দ্রুত গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবা গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক একটি লক্ষণ। কারণ বর্তমান যুগে ব্যাংকিং কার্যক্রম ছাড়া অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। তাই এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের উৎসাহিত করে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গ হয়ে উঠুক এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আহরিত গ্রামীণ আমানত গ্রামেই থাকছে নাকি সেটাও বিবেচ্য বিষয় বটে। গ্রামীণ অর্থনীতি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে চাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই এসব গ্রাম থেকে বিদেশি গিয়েছে। তারা যে বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স প্রেরণ করছে তা গ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গ্রামের দরিদ্র অনেক পরিবারই এখন প্রবাসী আয়ের স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে। তারা ব্যাংকিং কার্যক্রম করবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষের হাতে যখন উদ্বৃত্ত অর্থ থাকে তখনই তারা ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাড়া ফেলেছে এটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্যত্র। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ যে আমানত ব্যাংকের রাখছে তা গ্রামের উন্নয়নে ব্যবহৃত না হয়ে শহরে চলে আসছে। পুঁজির ধর্মই হলো গ্রাম বা দুর্বল স্থান থেকে শহরে বা সবল স্থানে চলে আসা। এক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটছে। ২০১৯ সালে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চল থেকে ৭ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা আমানত সংগৃহীত হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৪৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংগৃহীত আমানতের ৬ শতাংশেরও কম বিনিয়োগ হয়েছে গ্রামে। তার অর্থ হচ্ছে সংগৃহীত আমানতের প্রায় ৯৪ শতাংশই শহরে চলে এসেছে। এটা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। গ্রাম থেকে সংগৃহীত আমানত যাতে গ্রামেই বিনিয়োগ হতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ শাখা অথবা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে অর্থ সংগৃহীত হবে তা যাতে গ্রামেই বিনিয়োগ হয় এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় এভাবে গ্রাম থেকে পুঁজি শহরে চলে আসতে থাকলে শহর ও গ্রামের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য আগামীতে আরো বেড়ে যেতে পারে।

Share
নিউজটি ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged