সফলতা ও সচ্ছতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রিমিয়ার ব্যাংক

সময়: সোমবার, মার্চ ৯, ২০২০ ১১:২০:৫৯ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড সফলতার সঙ্গে ২০ বছর অতিবাহিত করেছে। বেসরকারিখাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ১৯৯৯ সালে মাত্র ১৭ জন কর্মকর্তা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।

প্রিমিয়িার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও ভালোবাসায় এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১১৫টি শাখার মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংকটি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেই চলেছে। বিগত ২০১৯ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংক অধিকাংশ সূচকেই এগিয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ নেমে এসেছে ৫ শতাংশের নিচে। এছাড়া অন্যান্য সূচকেও গত কয়েক বছরে ব্যাংকটি বেশ উন্নতি করেছে। আগের বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের আমানতে ২২ শতাংশ, মুনাফায় ১৫ শতাংশের বেশি, রেমিট্যান্স আহরণে ৫৪ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই ব্যাংকটি সব ধরনের সূচকে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একটি ব্যাংক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন।

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ এইচ.বি.এম. ইকবালের নেতৃত্বে বিগত বিশ বছরে সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে প্রিমিয়ার ব্যাংক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

ব্যাংকটি তার জন্মলগ্ন থেকেই অত্যন্ত সচ্ছতার সঙ্গে ব্যাংকিং আইন পরিপালন করে দেশের ব্যাংকিং খাতে লিডিং অবস্থানে রয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংককে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ এইচ.বি.এম. ইকবাল। তিনি এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। অত্যন্ত সততার তিনি সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যক্তি হিসেবেও তিনি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ আলী। তিনিও একজন সুদক্ষ ব্যাক্তি। তার সার্বক্ষণিক পরামর্শে প্রিমিয়ার ব্যাংক এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের সারাদেশে ১১৫টি শাখা রয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যাংকটি সেবা প্রধান করে থাকে। সারা দেশে এটিএম বুথের ব্যবস্থা রয়েছে, যা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহে ৭ দিন চালু থাকে। এটিএমের মাধ্যমে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায়। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং করা যায়। ব্যাংকের ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা ভিসা, মাস্টারকার্ড ও নেক্সাস কার্ডের মাধ্যমে বিল দিতে পারেন।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাধারণ ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি রয়েছে ইসলামীক ব্যাংকিং সুবিধা। এছাড়াও রিটেইল ব্যাংকিং, করপোরেট ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, স্কুল ব্যাংকিং ও এসএমই ব্যাংকিং করে থাকে। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিনিয়োগ ও সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি। প্রধান কার্যালয় ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিকিউরিটিজের ৫টি শাখা রয়েছে। এসব শাখায় শেয়ার লেনেদেন ও মার্জিন ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে।

কার্ড ডিভিশনের মাধ্যমে ক্রেডিট ও ডেভিট কার্ড সুবিধা দিয়ে আসছে। ডুয়েল কারেন্সি কার্ড, ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড, হজ্জ্ব কার্ড ও ট্রাভেল কার্ড সুবিধা রয়েছে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক ২০০০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৩৮.৯২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭.০১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩.৫২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩০.৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ৩৪ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল রোববার প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার ১৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। বিগত দুই বছরের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ২২ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১৫ টাকা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৫২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged