editorial

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন স্থিতিশীল বাজারের অন্তরায়

সময়: রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯ ৬:১০:১৫ অপরাহ্ণ


এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় যে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালক পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে দেন। আর এ ধরনের আইনবহির্ভূত কাজে সহযোগিতা করে আসছে কিছু ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান। আবার কোনো কোনো ইস্যুয়ার কোম্পানি উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ব্লক না রেখে আইন ভঙ্গ করছে। অনেক সময় কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্য গোপন করে ইনসাইডার ট্রেডিং করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মূল্যসংবেদশীল তথ্য আংশিক প্রকাশ, গোপন করা, দেরিতে প্রকাশ করার মতো ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্য-বাধকতার কারণে আইন ভঙ্গ করে শেয়ার কিনছেন। কিছু কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা শেয়ারহোল্ডিং বিষয়ে আইন মানতে নারাজ। অনেকে আবার শেয়ার ধারণে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। অনেকে ডিএসই’র ‘লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫’ মানছেন না। আবার অনেকে অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দিয়ে আইন ভঙ্গ করছে।
উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতিটিই সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন। যেগুলো প্রায়ই ঘটছে। এ প্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কোনো পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই শেয়ার বিক্রি এবং মূল্যসংবেদনশীল তথ্য গোপনের ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে আরো কঠোর হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিএসইসি’র এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় কাম্য নয়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবেদনশীল পুঁজিবাজারে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রি করা এবং মূল্যসংবেদনশীল তথ্য গোপন করে শেয়ার কেনা অনেক বড় অপরাধ। এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। এ সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তি হলে বাজারে শৃঙ্খলা আসবে।

Share
নিউজটি ৩৫২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged