স্থগিত হলো পিপলস লিজিংয়ের এজিএম ইজিএম

সময়: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ৭:১৯:২১ অপরাহ্ণ


স্থগিত করা হয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মহাখালিস্থ রওয়া কনভেশন সেন্টারে কোম্পানির এজিএম ও ইজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে এজিএম ও ইজিএম অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে পিপলস লিজিং।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন থেকে অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। লিস্টিং রেগুলেশনের ধারা ৫০(১) অনুসারে, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি লিস্টিং রেগুলেশনের বিধান লঙ্ঘন করলে কিংবা কোম্পানির শেয়ারদরে প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ঘাটতি থাকলে স্টক এক্সচেঞ্জ সেই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করতে পারে। আর রেগুলেশনের ধারা ৫০(৩) অনুসারে, প্রথম দফায় ৩০ কার্যদিবস এবং পরবর্তীতে আরও ১৫ কার্যদিবসের পিপলস লিজিংয়ের লেনদেন স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ায় স্টক এক্সচেঞ্জ। সে হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ২৮ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। আর হাইকোর্টের আদেশে পিপলস লিজিংয়ের প্রাক্তন পরিচালকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শিথিল ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির পরিচালনায় যারা ছিলেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জিম্মি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা যায়, ক্রমাগত লোকসানের মুখে থাকা পিপলস লিজিংকে অবসায়নের জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিটিকে অবসায়নের জন্য উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গত জুলাইয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে একজন অবসায়কও নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এম আসাদুজ্জামান খানকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনস্থ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এ উদ্যোগ নেয়।
উল্লেখ্য, পিপলস লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান ২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ। ২৮৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির বিতরণকৃত ৬৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে পিপলস লিজিং। নিরীক্ষক পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস তাদের কোয়ালিফায়েড অপিনিয়নেও পিপলস লিজিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টসহ ২০১৮ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ১৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর তাদের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির চলতি সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ ৩ দশমিক ১১ গুণ বেশি।
২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পিপলস লিজিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২৮৫ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির পুঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ ৭৬ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৯৭টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের হাতে ২৩.২১ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮.৭৬ শতাংশ শেয়ার, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.১৯ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৭.৮৪ শতাংশ শেয়ার।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/রী

Share
নিউজটি ৩৫০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged