স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য : প্রয়োজন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেনতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারি

সময়: বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯ ৬:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ


পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর আবার বাড়ছে। গত রোববার (২৮ জুলাই) দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে দর বাড়ার শীর্ষ তালিকায় বেশির ভাগই ছিল এসব কোম্পানি। মন্দা বাজারে এসব কোম্পানির দৌরাত্ম্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। যখনই পুঁজিবাজারে টানা মন্দাভাব দেখা দেয়, তখন ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর অধিকাংশেরই দর পড়ে গেলেও স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বাড়তে থাকে। পিই রেশিও অনুযায়ী এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব শেয়ায়ের দর বাড়ানোর পেছনে কোনো না কোনো চক্র সক্রিয় থাকে। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা না বুঝে মুনাফার আশায় এসব কোম্পানিতে যখন বিনিয়োগ করে, ঠিক তখনই চক্রটি মুনাফা হাতিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে লোকসানে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন অনেকেই। পুঁজিবাজারের এ ধরনের প্রবণতার বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা প্রয়োজন। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সচেতন করে তোলার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেরও দায়িত্ব রয়েছে।
এদিকে স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছেÑ এমন মনে করছেন অনেকে। এসব কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে এদের তালিকাচ্যুত করার কথা বলছেন কেউ কেউ।

স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্যের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সম্প্রতি অত্র পত্রিকার প্রতিবেদককে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, ‘স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলো নিয়ে জুয়াড়িরা খেলা করে। যেসব বিনিয়োগকারী ডে-ট্রেডারের ভূমিকা পালন করে, তারা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে চায়। তবে জুয়াড়িদের সঙ্গে তারা পারে না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিএসইসি’র উচিত স্বল্পমূলধনী, দুর্বল কোম্পানিগুলোর উপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনে সেগুলোকে তালিকাচ্যুত করা। পাশাপাশি ভালো কোম্পানি বাজারে আনা জরুরি। তাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তা বাজার স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।’

কিন্তু গভীরে গিয়ে ভাবলেই বোঝা যাবে যে, তালিকাচ্যুতি কোনো সমাধান নয়। এতে বরং বাজারে নতুন করে এক ধরনের সমস্যা বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীরাও পড়বেন বিপদে। তবে এসব কোম্পানিগুলোকে কড়া নজরদারির আওতায় আনা উচিত Ñএ বিষয়ে কারো কোনো দ্বি-মত আছে বলে মনে হয় না।
একই প্রসঙ্গে ‘ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেছেন, ‘বাজারে সব কোম্পানির দর ওঠানামা করবে- এটাই পুঁজিবাজারের নিয়ম। তবে দুর্বল কোম্পানির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। এসব কোম্পানিতে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। এসব কোম্পানিগুলোর দর বাড়ার সীমা অতিক্রম করলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং স্টক এক্সচেঞ্জের তা খতিয়ে দেখা উচিত।’

Share
নিউজটি ৪৪২ বার পড়া হয়েছে ।