অনুমতি ছাড়াই ভবন কেনায় জনতা ইন্স্যুরেন্সেকে তলব

সময়: মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০১৯ ২:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : জমি বা আবাসনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বীমা কোম্পানির বিনিয়োগকে বরাবরই নিরুৎসাহিত করে আসছিল বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এমন কী নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন ও ভূমি কোনোটিই কেনা বা নির্মাণ করা যাবে না- এমন নির্দেশনা দিয়ে ২০১২ সালে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। তবে এ নির্দেশনা অমান্য করে ২০১৪ সালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় ৬ কাঠা জমিসহ সাততলা ভবন কেনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানি ‘জনতা ইন্স্যুরেন্স’। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বীমা কোম্পানির এ ধরনের বিনিয়োগে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছে ‘আইডিআরএ’।
জানা যায়, জমি ও ভবন ক্রয়ের নির্দেশনা অমান্য করায় আগামী ২০ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে ডেকেছে ‘আইডিআরএ’। গত ১৬ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। ১৩ কোটি টাকা মূল্যের ভূমিসহ এ ভবনটি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় হিসেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জনতা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। আমাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হয়তো বলতে পারবেন।’
এদিকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোম্পানির বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাদাত আর খানকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিগত ২০১৪ সালে ভবনটি কেনার সময় জনতা ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন ফজলুল হক খান। এ প্রসঙ্গে কোম্পানিটির সাবেক ওই প্রধান নির্বাহ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘৬ কাঠা জমিসহ ৭ তলা ভবনটি কেনা হয়েছিল ১০ কোটি টাকায়। আর ডেকোরেশন বাবদ ব্যয় হয়েছিল আরো ৩ কোটি টাকা। কিন্তু ওই সময় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছিল কিনা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না।’
জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ জুলাই আইডিআরএ’র তৎকালীন সদস্য নব গোপাল বণিক স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জীবন বীমা কোম্পানি ও কর্পোরেশন কর্তৃক এ ধরনের সম্পদ ক্রয় ও আহরণ কিংবা নির্মাণের ক্ষেত্রে জীবন বীমা কোম্পানির পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে। তাই এসব ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় হলে পলিসিহোল্ডার ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় বলে আইডিআরএ’র ওই প্রজ্ঞাপনে মন্তব্য করা হয়। তাতে আরো বলা হয়, সম্পদ একই খাতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হলে ঝুঁকির মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। যা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বকে বিপদাপন্ন করতে পারে। এ প্রেক্ষিতে এখন থেকে বীমা কোম্পানি ও কর্পোরেশন কর্তৃক দালান ও ভূমি ইত্যাদি স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়, আহরণ ও নির্মাণের ক্ষেত্রে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ সদস্য ড. এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জনতা ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নির্দেশনা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেছে। তাই আইন অনুযায়ী কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ‘বি’ ক্যাটাগরির জনতা ইন্স্যুরেন্স ১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে এ কোম্পানি। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১৪ টাকা ৩০ পয়সা। আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এর বার্ষিক সাধারণ সভা। আর ২০১৭ সালে ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় এ কোম্পানি। সে বছর এ কোম্পানির ইপিএস ছিল ৫০ পয়সা ও এনএভিপিএস ১৩ টাকা ৮৯ পয়সা।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged