অভিহিত মূল্যে ৬০৭ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত

সময়: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৩ ৬:৫১:২৭ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : অভিহিত মূল্যে ৬০৭ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের অনুকূলে ৬০৭ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকার অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটির বোর্ড সভার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, ডেসকোর অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা সাধারণ শেয়ার ও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারে বিভক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

অগ্রাধিকারমূলক ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শেয়ারের মধ্যে ৬০৭ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩০ টাকার শেয়ার ইস্যু করাা হবে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বড় লোকসান গুনেছে ডেসকো।

আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ১৫১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছিল ১১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩ টাকা ৮২ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২৯ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৩ টাকা ৬১ পয়সা। আগের অর্থবছরের ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫৯ পয়সা। সমাপ্ত ২০২৩ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে ডেসকোর পর্ষদ।

বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও আবেদনের তারিখ নির্ধারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আবেদদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিটির আইপিও আবেদন নেওয়া শুরু হবে আগামী ৮ জানুয়ারি। চলবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারী তথা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

আর এই নিলামের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের কাট-অফ মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩৫ টাকা।

এখান থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়ে ২৪ টাকা দরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বেস্ট হোল্ডিংসের প্রসপেক্টাস অনুসারে, ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য কোম্পানিটিকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার ইস্যু করা হবে।

এর মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা কিনে নিয়েছেন ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার।

এদিকে, কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে ১৫ শতাংশ শেয়ার, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার।

তাদেরকে কাট-অফ মূল্যের উপর ২০ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে ৪২ টাকা দরে এই শেয়ার কিনতে হবে।

এই শেয়ারের উপর ২ বছরের লক-ইন থাকবে, যা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার দিন থেকে গণনা হবে।

আইপিওতে অনিবাসী বাংলাদেশীসহ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ২৩ হাজার শেয়ার।

বর্তমানে বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ৯২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আইপিওর পর কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ১ হাজার ৫০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ কোম্পানিটির বিভিন্ন চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যাংক ঋণের একাংশ পরিশোধ ও আইপিওর ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হবে।

বেস্ট হোল্ডিংস মূলত: পরিচিত পাঁচ তারকা হোটেল লো মেরিডিয়ান ঢাকা এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে।

তবে এই কোম্পানির মালিকানায় আরও কয়েকটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

এগুলো হচ্ছে-এলএম রেসিডেন্স বসুন্ধরা, ম্যারিয়ট ভালুকা, ম্যারিয়ট কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, লাক্সারি কালেকশন ভালুকা, লাক্সারি ভিলা ভালুকা এবং ধামশুর ইকোনোমিক জোন।

এর বাইরে কৃষি খাতেও বিনিয়োগ রয়েছে কোম্পানিটির।

কোম্পানিটি নোয়াখালী ও ভালুকায় পোল্ট্রি, ডেইরি, ফিশারিজ, লাইভস্টক খামার পরিচালনা করছে।

বেস্ট হোল্ডিংসের দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে; এগুলো হচ্ছে-আইকনএক্স হোটেলস লিঃ ও ধামশুর ইকোনমিক জোন লিঃ।

দুটি কোম্পানিরই ৫১ শতাংশ করে শেয়ার ধারণ করছে বেস্ট হোল্ডিংস।

প্রসপেক্টাস অনুসারে, আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের মধ্যে লাক্সারি কালেকশনের বিল্ডিং ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ১৭৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, লাক্সারি কালেকশনের মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি কেনায় ৪৫ কোটি টাকা, ঋণ পরিশোধে ১১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং আইপিওর ব্যয় নির্বাহে ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যবহার করা হবে।

সর্বশেষ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির ডাইলুটেড ইপিএস ছিল ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের বছর অর্থাৎ ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ছিল ১ টাকা ১০ পয়সা। তার আগের তিন বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল যথাক্রমে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে- ৪৪ পয়সা, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১ টাকা ১ পয়সা।

কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে আছে শান্তা ইক্যুইটিজ লিমিটেড ও আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

 

 

Share
নিউজটি ৩৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged