আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি নতুন জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর

সময়: বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ ১১:৪৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : গত বছর যা আয় হয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় করেছে ‘ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স’। অবস্থা পরিবর্তন হয়নি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও। কোম্পানিটি ২০১৮ সালে মোট ২২ কোটি ৮১ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে, একই সময়ে এর ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যা মোট আয়ের চেয়ে ৩০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ২০৩ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ কোম্পানি ব্যবস্থাপনা বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। যা আয়ের তুলনায় ১৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
একই চিত্র দেখা যায় ‘বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স’-এর ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে। গত বছর বেস্ট লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, আর ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ২৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ সময় কোম্পানিটি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা মোট আয়ের তুলনায় ১৫১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি। জানা যায়, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে এর অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। যা আয়ের তুলনায় ২১০ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি।
শুধু ট্রাস্ট বা বেস্ট লাইফ নয় বরং ২০১৩ সালে দুই দফায় অনুমোদন পাওয়া নতুন অধিকাংশ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় তাদের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন বীমা কোম্পানির ব্যয় বৃদ্ধির এ প্রবণতাকে আশঙ্কাজনক মনে করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ’র সদস্য ড. এম মোশাররফ হোসেন ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘আমরা নানাভাবে চাপ দিচ্ছি কোম্পানিগুলোর ব্যয় কমানোর জন্য। কারণ ব্যয় না কমালে তারা মুনাফায় আসবে না।’ অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট প্রিমিয়াম আয় ১২ কোটি ১১ লাখ টাকা হলেও ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। যা মোট আয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ১৪৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতে বছরের প্রথম প্রান্তিকে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যা আয়ের চেয়ে ১৭২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।
গত বছর এনআরবি গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, কিন্তু একই সময়ে মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ১১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানিটি আয়ের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে মাত্র ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। একই সময়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যা মোট আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ১২৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। জানা যায়, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি আয়ের চেয়ে ১৬৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।
এদিকে, গত বছর এলআইসি বাংলাদেশের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ও ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা মোট প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় ১০৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বা ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বেশি। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০২ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।
এছাড়াও গত বছর আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, আর ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা ৯১ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। এদিকে প্রথম প্রান্তিকে এর অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা। যা আয়ের তুলনায় ১০৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি।
জানা গেছে, গত বছর চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। যা আয়ের চেয়ে ৮০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকেও আয়ের তুলনায় ৬১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে এ কোম্পানি।
২০১৮ সালে ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যা আয়ের তুলনায় ৮২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। প্রথম প্রান্তিকে আয়ের চেয়ে ৯১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে ডায়মন্ড লাইফ।
এদিকে যমুনা লাইফ ২০১৮ সালে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। যা মোট আয়ের তুলনায় ৮৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি আয়ের চেয়ে ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় করেছে।
জানা যায়, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স গত বছর মোট ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যবস্থাপনা বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। যা তাদের আয়ের তুলনায় ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানিটি আয়ের চেয়ে ৯৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
এছাড়া, ২০১৮ সালে প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। যা আয়ের তুলনায় ৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। এদিকে প্রথম প্রান্তিকে আয়ের তুলনায় ৫৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে এ কোম্পানিটি।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged