তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স

আয় কমেছে ৪০%, বাড়ছে ব্যয়

সময়: বুধবার, নভেম্বর ৬, ২০১৯ ১১:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : আয় কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে,সন্তোষজনক নয় বীমা দাবি পরিশোধের হার। পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ বকেয়া রয়েছে মোটা অংকের টাকা। কিন্তু এরপরও বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ব্যয়। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ও সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এ কোম্পানির আয় দাঁড়ায় ৪৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। যা এর আগের বছর ছিল ৭৯৫ কোটি টাকা। গত বছর কোম্পানিটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৯৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে যা ছিল ৮১২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স মোট ২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এদিকে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় হয়ছে ৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।
এ প্রসঙ্গে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মঈনুল আহসান চৌধুরী ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘শেয়ারবাজারে লোকসানের কারণে আমাদের আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।’ এছাড়া কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টিও স্বিকার করেন তিনি।
জানা যায়, ২০১৮ সালে এ কোম্পানির গ্রস দাবির পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির দাবি পরিশোধের হার মাত্র ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ কোম্পানির গ্রস দাবির পরিমাণ ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৮৪ লাখ টাকা।
জানা গেছে, এসবিসি’র কাছে দীর্ঘদিন ধরে পুনঃবীমার প্রিমিয়াম বাবদ ২ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা বকেয়া রেখেছে কোম্পানিটি। এ প্রিমিয়াম আদায়ে একাধিকবার তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সকে চিঠিও দিয়েছে এসবিসি কর্তৃপক্ষ।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর রিজার্ভে রয়েছে ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় এ কোম্পানি। এসময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৫ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১৭ টাকা ২ পয়সা।
২০১৭ সালেও ৫ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সে বছর ইপিএস দাঁড়ায় ১ টাকা ৭৯ পয়সায় ও এনএভিপিএস ১৭ টাকা ৪৯ পয়সা। ২০১৬ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় এ কোম্পানি। ২০১৫ সালেও ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় তাকাফুল। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
ডিএসই-তে গতকাল মঙ্গলবার এ শেয়ারের দর ছিল অপরিবর্তিত। দিনভর দর ২৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২৭ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠা-নামা করে। সমাপনী দর ছিল ২৭ টাকা ২০ পয়সা। এদিন ৩৮ বারে এ কোম্পানির মোট ১২ হাজার ৫৪২টি শেয়ারের লেনদেন হয়।
গত এক মাসে এ শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ২৭ টাকা ও সর্বোচ্চ দর ২৯ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ২৩ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বোচ্চ দর ছিল ৪০ টাকা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged