একনেক সভায় ১২ প্রকল্পের অনুমোদন

সময়: বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯ ৪:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : একনেক সভায় ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ওসব প্রকল্পে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নূরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের শামীমা নার্গীস।
সরকার সাইবার আক্রমণ থেকে সরকারি তথ্য ভাণ্ডার রক্ষা করতে ১৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আইসিটি বিভাগ ও বিসিসি’র অধীনে ‘বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি’ নামক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের প্রধান কাজগুলো হচ্ছে- ৩৮টি বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার সংগ্রহ, ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ, কম্পিউটার এক্সেসরিজ সংগ্রহ, অফিস ইক্যুপমেন্ট ও ফার্নিচার, বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল নিয়োগ দেয়া। প্রকল্পটির বিষয়ে বলা হয়েছে, সিআইআরটি এর কার্যক্রমকে পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারসহ ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারকে নিরাপত্তা দিতে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে জিএনএস করস এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। তাছাড়া থানচি-রিমকীর-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৬৯ কোটি টাকা। রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড়/ভূমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন/ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌরশহর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি হতে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
এছাড়া নতুন অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, টাকার অংকে ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সময়ে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের শুরুতেই প্রকল্পের টাকা সরাসরি পিডিদের কাছে দেয়া হচ্ছে। তারই ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি এ অর্থবছরে সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন হবে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

 

Share
নিউজটি ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged