ওটিসি মার্কেটে সোনালী পেপারের বিক্রেতা উধাও

সময়: রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ ১০:১৫:২৩ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : মূল মার্কেটে আসার অনুমোদন পাওয়ার পর সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস্্ লিমিটেডের বিক্রেতা উধাও। বর্তমানে কোম্পানিটি ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে রয়েছে। কিছুদিন আগেও বিক্রেতা ছিল কোম্পানিটির। অন্যদিকে সোনালী পেপারের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। মাত্র ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
সোনালী পেপারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মূল বাজারে আসার এ অনুমোদন দেয়। এক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন ও স্টক এক্সচেঞ্জের বেশ কিছু ধারা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে তালিকাচ্যুত হওয়ার ১০ বছরেরও বেশি সময় পর মূল বোর্ডের লেনদেন ব্যবস্থায় ফিরছে কোম্পানিটি।
এদিকে ওটিসি মার্কেটে সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর সোনালী পেপারের প্রতিটি শেয়ার ২৫০ টাকায় লেনদেন হয়। এর আগের কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য ছিল ২৪০ টাকা। মূল্য ৪.১৭ শতাংশ বাড়লেও লেনদেন হয়েছে মাত্র ২০০টি শেয়ার। এরপর থেকে আর কোনো বিক্রেতা নেই। এর আগের সপ্তাহে ২২১ টাকা লেনেদেন হয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।
বর্তমানে কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮৮ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানির ৬৯.৩০ শতাংশ শেয়ারই পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০.৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। অবশিষ্ট ১০.৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। যদিও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কেউই আর বিক্রয় আদেশ দিচ্ছেন না।
জানা গেছে, শর্তপূরণ করতে পারলে অন্যান্য কোম্পানিকেও মূল মার্কেটে আসার অনুমোদন দেবে বিএসইসি। এর আগে ওয়াটা কেমিক্যাল ও আলিফ টেক্সটাইল ওটিসি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে পুনঃতালিকাভুক্ত হয়। ওটিসি’র যেসব কোম্পানি ধারাবাহিক মুনাফা ও লভ্যাংশ দিচ্ছে, তাদের জন্যও স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে পুনঃতালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করেছে এসইসি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখিয়েছে ৮৬ পয়সা। সে হিসেবে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার টাকা। সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্য ও আয়ের অনুপাত (পিই) ৭২.৬৭। আর নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন হিসেবে ১২২.৫৫।
মূল বাজারে ফিরতে সোনালী পেপার মিলস্্কে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা থাকার বাধ্যবাধকতা, সর্বশেষ তিন হিসাব বছরে পরিচালন কার্যক্রমে নিট তারল্য প্রবাহ ধনাত্মক থাকা ও পরিচালকদের ডিউ ডিলিজেন্স সার্টিফিকেট, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের পৃথক নিঃশর্ত অঙ্গীকারনামা প্রদান থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এসইসি। শিডিউলের অধীন এনেক্সার ১০ ও এনেক্সার ১২-তে ফরম্যাট অব ডিক্লারেশনে পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শর্ত থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানির ইনফরমেশন ডকুমেন্ট প্রকাশে ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগের বাধ্যবাধকতা থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। শেয়ার নিষ্পত্তি বিষয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনের ১২ ও ১৩ ধারায় থাকা বিভিন্ন শর্ত থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়।
মূল বাজারে ফিরতে চাইলে কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইনফরমেশন ডকুমেন্টে তথ্য প্রদান করতে হবে। এ জন্য কোনো ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ দিতে হবে না।
কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ, ধারাবাহিক লোকসান, নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান ও এজিএম (বার্ষিক সাধারণ সভা) না করা, কাগুজে শেয়ার ইলেকট্রনিকে শেয়ারে রূপান্তর না করাসহ বিভিন্ন কারণে ২০০৯ ও ২০১০ সালে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজার থেকে সোনালী পেপারসহ মোট ৭২টি কোম্পানি তালিকাচ্যুত করে ওটিসিতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি মূল বাজারে ফেরত এসেছে। বর্তমানে ওটিসিতে ৬৫ কোম্পানি রয়েছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৭০১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged