খেলাপি ঋণের শীর্ষে জনতা ব্যাংক

সময়: সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯ ৭:০৭:১২ পূর্বাহ্ণ


বিশেষ প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে (জুন ২০১৯) ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে খেলাপি ঋণের হার হচ্ছে ৪০ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে (জুন ২০১৮) ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার কোটি টাকা (১৫ শতাংশ)। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৪১০ কোটি টাকা এবং শতকরা হিসেবে বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রেরিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, খেলাপি ঋণ আদায়ে একটি ‘অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৯’ প্রণয়নের পাশাপাশি ব্যাংকটির ডিএমডি ও জিএমদের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ মনিটরিং কমিটি’ গঠন করেছে জনতা ব্যাংক। কিন্তু এতেও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের ২০ হাজার ৩৮৬টি মামলার বিপরীতে জনতা ব্যাংকের দাবিকৃত প্রায় ২১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা আটকে আছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এক বছরে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। যদিও শতকরা হিসেবে বেসিক ও বিডিবিএল-এ খেলাপি ঋণের হার জনতা ব্যাংকের চেয়ে বেশি, তথাপি টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ এখন জনতা ব্যাংকে। উল্লেখ্য, গত জুন (২০১৯) শেষে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ হাজার ৮০৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের হার হচ্ছে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে বিডিবিএল-এর খেলাপি ঋণের স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯০১ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের হার হচ্ছে ৪৬ শতাংশ।
জনতা ব্যাংকের নিজস্ব ভাষ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, মামলা নিষ্পত্তিতে ধীরগতি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতাÑ এগুলো হচ্ছে বর্তমানে ব্যাংকটির প্রধান সমস্যা। বিশেষত ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ‘ব্যাসেল-৩’-এর মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে অবলোপনকৃত ঋণ আদায়সহ শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং পরিচালন মুনাফা বাড়ানো ব্যাংকটির প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
জানা যায়, পুরোনো খেলাপি ঋণের পাশাপাশি ‘অ্যাননটেক্স’ ও ‘ক্রিসেন্ট গ্রুপ’-এর কারণে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এই দুই গ্রুপের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ‘অ্যাননটেক্স’-এর কাছে পাওনা ৪ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা এবং ‘ক্রিসেন্ট গ্রুপ’-এর কাছে পাওনা ৩ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অন্যান্যের মধ্যে ‘গ্রাম বাংলা এনপিকে’-এর কাছে ৩১২ কোটি টাকা, ‘আফিল জুট মিলস’-এর কাছে ১৩৭ কোটি টাকা, ‘পারটেক্স গ্রুপ’-এর কাছে ১৩০ কোটি টাকা, ‘অ্যাপেক্স গ্রুপ’-এর কাছে ১২০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ৯২২ কোটি টাকা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged