editorial

গণঅর্থায়নের ব্যাপক চাহিদা : প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা

সময়: রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ ৯:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ


সহযোগী এক জাতীয় দৈনিকে বিডি ভেঞ্চারের উদ্যোগে গঠিত ফান্ড এসএমই সংক্রান্ত চমকপ্রদ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, দেশে গণঅর্থায়নের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেকেই এই ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য আগ্রহী হলেও প্রয়োজনীয় নীতিমালা না থাকার কারণে এ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। যারা নতুন করে ব্যবসায়-বাণিজ্য শুরু করবেন; কিন্তু প্রয়োজনীয় পুঁজি যোগার করতে পারছেন না এবং যারা বিনিয়োগ করতে চান অথচ বিনিয়োগের সূত্র পাচ্ছেন না তাদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরিতে গণঅর্থায়ন ফান্ড অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশে ইতোপূর্বে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাই বিষয়টি আমাদের প্রেক্ষিতে নতুনই বলতে হবে। তবে বিশ্বব্যাপী এ উদ্যোগে মোটেও নতুন নয়। অনেকদিন ধরেই তারা দক্ষতার সঙ্গে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অর্থনীতির পরিভাষায় এ ধরনের উদ্যোগকে ক্রাউডেড ফান্ড বা গণঅর্থায়ন বলা হয়। গণঅর্থায়ন প্রকল্পে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ব্যাংকের নিকট ধর্ণা না দিয়েও তাদের চাহিদাকৃত পুঁজি সংগ্রহ করতে পারেন। আর যাদের উদ্বৃত্ত অর্থ বা পুঁজি আছে; কিন্তু সঠিক এবং লাভজনকভাবে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। তারা এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন। বিশ্বে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে যারা ক্রাউডেড ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। জার্মানির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণ কোম্পানি সনো মোটর্স স্মার্ট ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পেবেল টাইম এভাবেই গড়ে উঠেছে। উভয়পক্ষের বিশ্বাস ও আস্থার উপর এ প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে। এখানে তিনটি পক্ষ থাকে। একটি পক্ষ হচ্ছে অর্থায়ন গ্রহণকারী, একপক্ষ অর্থ যোগানদানকারী এবং অন্যপক্ষ হচ্ছে মধ্যস্থতাকারী। এ তিনপক্ষের মধ্যে অটুট আস্থার বন্ধন থাকলেই এ ধরনের গণঅর্থায়ন কার্যক্রম সফল হতে পারে। তবে তিনপক্ষের মধ্যে বিশ্বাস ভঙ্গের কারণ ঘটতে পারে। আর সেটা ঘটলে কোনো না কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি সুরক্ষা দানের ব্যবস্থা রাখা হয়।
বিডি ভেঞ্চার এসএমই ফান্ড গঠিত হয়েছে। এ ফান্ড থেকে অর্থায়ন প্রাপ্তির জন্য ইতোমধ্যেই ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রকল্প থেকে ফান্ড প্রাপ্তির জন্য ইতোমধ্যেই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা জানিয়েছে। উদ্যোক্তা বা অর্থায়ন প্রত্যাশিগণ সাধারণত অন লাইনে তাদের চাহিদা জানাচ্ছে। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত সঠিক কোনো নীতিমালা না থাকায় অনেকেই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগে সাহসী হচ্ছেন না। বিডি ভেঞ্চারের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরামর্শক শওকত হোসেন জানান, বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন; কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে এ-সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে কেউ তহবিল প্রদানে উৎসাহী হচ্ছেন না। যেসব প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে পুঁজি সংগ্রহের প্রস্তাব পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী। টারবাইনের মাধ্যমে বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার তহবিলের জন্য আবেদন করেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ক্রাউডেড ফান্ড বা গণঅর্থায়নের উদ্যোগ নতুন একটি কার্যক্রম। এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কিন্তু প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো না থাকার কারণে উদ্বৃত্ত পুঁজির মালিকগণ এখানে তাদের তহবিল প্রদানের ক্ষেত্রে আগ্রহী হচ্ছেন না। আবার যারা এখান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাদের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করবেন তারাও নানাভাবে দ্বিধান্বিত থাকছেন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের চাহিদাকৃত অর্থের যোগান দিতে পারছে না। এ ছাড়া কেউ একজন চাইলেই ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারছে না। ফলে অর্থাভাবে অনেকের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে যেহেতু সরকারের দায়-দায়িত্ব খুবই কম। শুধু আইনি সহায়তা দিলেই উদ্যোক্তারা কাজটি করতে পারেন তাই রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা দেয়া যেতে পারে।

Share
নিউজটি ৩২৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged