গভর্নরের সঙ্গে প্রধান নির্বাহীদের বৈঠক : সঙ্কট মোকাবেলায় দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো

সময়: বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯ ৪:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ


বিশেষ প্রতিনিধি : আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের পর পুরো খাতে সাধারণ আমানতকারীদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। প্রভাব পড়ছে দেশে বিদ্যমান ৩৩টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। এ প্রেক্ষিতে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। চলমান সংকট থেকে উত্তরণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমানতকারীদের কাছে তুলে ধরবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৈঠক শেষে আইপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, চলমান সংকটের কারণে আমানতকারীরা অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এমতাবস্থায় আমানতকারীদের একটি চেকও যাতে ডিজ-অনার না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। এনবিএফআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারে, যদি তারল্য সহায়তা দিয়ে তাদেরকে সংকট মুক্ত করা যায়Ñ সেটা কীভাবে হবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সহায়তা কীভাবে পাওয়া যাবে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি-দুটি প্রতিষ্ঠানের কারণে পুরো খাতের বদনাম যাতে না হয়, মানুষের আস্থা যাতে বহাল থাকে, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
মুমিনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চরম তারল্য সংকটের বিষয় সবার সামনে এসেছে। কিন্তু এর বাইরে আরও ২৯টি প্রতিষ্ঠান আছে। এই দুর্বল ৫টি প্রতিষ্ঠানের কারণে যাতে বাকি ২৯টি প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে না পড়েÑ সে জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায় Ñএসব বিষয়ে গভর্নর দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি প্রথম ঘটনা হওয়ায় কারও মধ্যে যাতে আতঙ্ক তৈরি না হয় সেটিও খেয়াল রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ভালো থাকে সেজন্য আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সব ধরনের পলিসি সাপোর্ট দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি তারল্য সহায়তা প্রদান কিংবা ফান্ড ম্যানেজম্যান্টে সাহায্যের দরকার হলে সব ধরনের সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দিচ্ছে। পিপলসের কারণে ব্যাংকের আমানত যাতে উত্তোলন না করা হয় সেসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে। যেহেতু বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভূমিকা পালন করতে চাইছে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তারল্য সহায়তাও চেয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো আছে, তারা যাতে দুর্বলদের তারল্য সহায়তা দেয়। আর চেক অনার করার কথা বলা হয়েছে। আমানতকারীদের কেউ অর্থ চাইলেই যাতে পায়। কোনো চেক যাতে ফেরত না যায় বৈঠকে সে বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা ক্ষণস্থায়ী। সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে যেতে হবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বন্ড মার্কেট, বন্ড ইস্যু, বন্ড সিকিউরিটাইজেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জিরো কুপন বন্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্যাক্স রেট কমানোর ব্যাপারে এনবিআরকে বলা হয়েছে। জিরো কুপন বন্ডে সরকার ইতোমধ্যে করহার কমিয়েছে। আগে অবশ্য জিরো কুপন বন্ড করমুক্ত ছিল।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৮১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged