ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয়নি বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একাডেমি আইন

সময়: সোমবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৯ ৯:২০:৩০ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের পর বছর ধরে অনেকটাই অকার্যকর হয়ে আছে বাংলাদেশ বীমা একাডেমি। বীমা খাতে দক্ষ লোকবল তৈরির উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত ভূমিকা রাখতে পারছে না। এরই প্রেক্ষিতে সরকার ২০১৪ সালে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিদ্যমান বীমা একাডেমি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একাডেমি আইন, ২০১৪-এর একটি খসড়াও তৈরি করা হয়। কিন্তু ছয় বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এখন পর্যন্ত তা খসড়া আইনটি চূড়ান্ত হয়নি।
বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা একাডেমি আইনের খসড়া অনুযায়ী ‘কর্তৃপক্ষ’ বলতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া ধারা ৩ এর উপধারা (৭) অনুযায়ী অভিজ্ঞ বিদেশি প্রশিক্ষকও একাডেমির প্রশিক্ষক হতে পারবেন এবং একই ধারার উপধারা (৮)-এ প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রত্যেক বীমা করপোরেশন/ কোম্পানি একাডেমির সদস্য হতে পারবেন। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বীমা একাডেমির পরিচালনায় প্রতি বছর একাডেমির তহবিলে চাঁদা প্রদান করবে। যারা সদস্য হবে না, তারা সহযোগী সদস্য হবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে প্রতি বছর একাডেমির তহবিলে চাঁদা প্রদান করবে।
বাংলাদেশ বীমা একাডেমি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না।
ব্যাংকিং খাতে জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে বিআইবিএম প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর বীমা একাডেমি করা হয়েছিল তারও এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে। সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও ব্যাংক খাতে অবদান রাখার জন্য বিআইবিএম বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আর আশানুরূপ অবদান রাখতে না পারার কারণেই বীমা একাডেমিকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জানতে চাইলে একাডেমির পরিচালক মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, খসড়া আইনটি সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তাই এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তিনি বীমা একাডেমিকে বিলুপ্ত না করে এর আধুনিকায়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, বীমা খাতে দক্ষ লোকবল তৈরি করা গেলে জিডিপিতে খাতটির অবদান বাড়বে। এজন্য বীমা খাতের জন্য বিআইবিএমের মতো একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা যেতে পারে।
বর্তমানে বীমা একাডেমি ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব পদাধিকারবলে পর্ষদের চেয়ারম্যান। একাডেমির প্রধান নির্বাহী একজন পরিচালক, যুগ্মসচিব পদমর্যাদার যে কর্মকর্তাকে সরকার নিয়োগ দেয়। পর্ষদের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান, সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), জীবন বীমা করপোরেশনের (জেবিসি) এমডি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, বীমা বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এবং বিআইএ’র তিনজন প্রতিনিধি। নতুন কাঠামোয় ১৩ সদস্যের পর্ষদের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার চেয়ারম্যান হবেন পদাধিকারবলে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান। একাডেমির প্রধান নির্বাহী হবেন মহাপরিচালক। অন্যরা হবেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এসবিসি, জেবিসি, বিআইএ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ, বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি ও বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানি থেকে একজন করে প্রতিনিধি। এছাড়া আইডিআরএ’র একজন সদস্য ও সরকার মনোনীত বীমা বিষয়ে অভিজ্ঞ দু’জন ব্যক্তি। একাডেমির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবনাও রয়েছে খসড়া আইনটিতে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged