জিডিপি-বাজার মূলধন অনুপাতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

সময়: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৭, ২০২০ ১১:২৯:০২ পূর্বাহ্ণ


নাজমুল ইসলাম ফারুক : জিডিপি’র(গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট) বিপরীতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন অনুপাত ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা উন্নত দেশতো বটেই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর চেয়েও কম। এ অবস্থার থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে শেয়ারবাজারে অংশ আরো হ্রাস পাবার শঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে বহুজাতিক, সরকারি, বিদেশি ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশের জিডিপি’তে শেয়ারবাজারের অংশগ্রহণ বাড়বে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে থাইল্যান্ডের জিডিপি’তে শেয়ারবাজার মূলধনের অনুপাত ১০৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ভারতের ৭৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৭৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের ৩৩ দশমিক ১০ শতাংশ, শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জে ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ, জাপান এক্সচেঞ্জ গ্রুপে ১১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং মালেশিয়ায় ১০৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১০ সালের শেয়ারবাজারের ধ্বস পরবর্তী সময়ে শেয়ারবাজারের জন্য অনেক আইনি সংস্কার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব আইন পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে বেশ কিছু কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে এসেছে, যাদের ভিত্তি দুর্বল। এসব কোম্পানি বাজারকে অস্থিরতার দিকে নিয়ে গেছে। বাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। বিপরীত দিকে আইপিও’র দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে ভালো কোম্পানি বাজারে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে।
তারা বলছেন, কি কি কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা খুঁজে বের করে আইন পরিপালনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, বাজারে গতি ফেরাতে হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ বাড়াবে, স্থিতিশীলতায় ফিরবে বাজার। পাশাপাশি সরকারি, বহুজাতিক, দেশি-বিদেশি ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। এটা করা গেলেই জিডিপি’তে শেয়ারবাজারে অবদান বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’ কে বলেন, বাজার মূলধন নির্ভর করে শেয়ারের দামের উপর। শেয়ার দাম বাড়লে বাজার মূলধন বাড়ে। আর বাজার মূলধন বাড়লে জিডিপি’তে অংশগ্রহণ বাড়ে। আর এজন্য ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি, বহুজাতিক কোম্পানি, সরকারি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। বাজারকে অংশগ্রহণ মূলক করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের জিডিপি বড় কিন্তু তাতে শেয়ারবাজারের অংশগ্রহণ কম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের জিডিপি’তে শেয়ারবাজারে মূলধনের অনুপাত বেশি। কারণ ওইসব দেশের বেশির ভাগ ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত। আমাদের দেশেও উদ্যোগ নিয়ে বড় আকারের ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। বহুজাতিক যেসব কোম্পানি আমাদের দেশে ব্যবসা করছে তাদেরকে বাজারে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সম্পর্কে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’ কে বলেন, বর্তমান বাজারে আস্থার সংকট রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাজারে আস্থা ফিরলে শেয়ার দর বাড়বে, বাজার মূলধন বাড়বে, জিডিপি’তে অংশগ্রহণ বাড়বে। এছাড়া যেসব কোম্পানি দেশে ভালো ব্যবসা করছে বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আসতে বাধ্য করতে হবে। এসব কাজের মাধ্যমে বাজার মূলধন বাড়বে, জিডিপি’তে অবদান রাখবে শেয়ারবাজার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম শেয়ারবাজার। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে শক্তিশালী শেয়ারাবাজারের গুরুত্ব রয়েছে। কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মালিকানার কিছু অংশ বিক্রি করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিপরীত দিকে কিছু শেয়ার কিনে একটি কোম্পানির মালিকানার ক্ষুদ্র অংশ পায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ওই কোম্পানি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে বছর শেষে আয়ের একটি অংশ লভ্যাংশ হিসাবে পায় তারা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের পছন্দমতো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরই একটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করতে পারে বিনিয়োগকারীরা। শেয়ার দর বাড়লে বাজার মূলধন বাড়ে, যা দেশের জিডিপি’তে অংশগ্রহণ বাড়ায়।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged