‘জেড’ ক্যাটাগরির চার কোম্পানির অবস্থা খতিয়ে দেখতে চায় ডিএসই

সময়: সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯ ৩:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরও চার কোম্পানির সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- বীচ হ্যাচারি লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক। দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেয়াসহ নানা কারণে কোম্পানিগুলো বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানি চারটির সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যেই ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি)-এর কাছে অনুমতি চেয়েছে ডিএসই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি পেলেই কোম্পানিগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, ডিএসই’র পক্ষ থেকে ৪টি কোম্পানির সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি কমিশন।

জানা যায়, আলোচ্য কোম্পানিগুলো উৎপাদন না থাকলেও এগুলোর শেয়ার দর প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ডিএসই এসব কোম্পানিকে রিভিউর মাধ্যমে মূল বাজার থেকে ওটিসি- তে পাঠাতে চায়। এর মাধ্যমে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকটি কোম্পানির সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে ডিএসই। ওই সময় দীর্ঘদিন শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ ও উৎপাদন বন্ধ থাকায় রহিমা ফুড এবং মডার্ন ডাইং কোম্পানি দুটিকে বাজার থেকে সরাসরি তালিকাচ্যুত করেছে ডিএসই।
এছাড়া ৫ বছরের বেশি সময় ধরে লভ্যাংশ দিচ্ছে না, উৎপাদন বন্ধ থাকা কিছু কোম্পানির রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। কোম্পানিগুলো হলো- মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, দুলামিয়া কটন স্পিনিং, সমতা লেদার কমপ্লেক্স, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার মিলস, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, জুট স্পিনার্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল এবং ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক। পরবর্তীতে এসব কোম্পানির সঙ্গে বীচ হ্যাচারি এবং ইউনাইটেড এয়ারকে রিভিউয়ের আওতায় আনা হয়।

২০১৫ সালের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশনের ৫১ (১) (এ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো কোম্পানি তার সর্বশেষ লভ্যাংশ দেয়ার পর ৫ বছর তা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ডিএসই চাইলে কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করতে পারে। এছাড়া রেগুলেশনের ৫১ (১) (সি) তে বলা হয়েছে, যদি কোনো ইস্যুয়ার স্বেচ্ছায় কিংবা আদালতের নির্দেশে লিক্যুইডেশনে বা অবসায়নে যায় বা টানা ৩ বছর ব্যবসায়িক উৎপাদন বন্ধ থাকে তাহলে সে ইস্যুয়ারকে তালিকাচ্যুত করা যেতে পারে। এই আইনের আওতায় উল্লেখিত কোম্পানিগুলোকে রিভিউয়ের আওতায় রেখেছে ডিএসই।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫২২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged