ডিএসই’র নিজস্ব ভবন নিকুঞ্জে যেতে ব্রোকারদের অনীহা

সময়: বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯ ১০:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর নিকুঞ্জে প্রস্তুত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর নিজস্ব ভবন। মতিঝিল থেকে ডিএসই’র নিজস্ব ভবনে উঠতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু রাজধানীর শেষ প্রান্তে যেতে ডিএসই’র সদস্য ব্রোকারদের রয়েছে অনীহা। বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটি-ই জানা গেছে।

জানা গেছে, ডিএসই’র ছোট বড় প্রায় ২৫০ সদস্য ব্রোকারেজ হাউজ আছে। ইতোমধ্যে এসব সদস্য ব্রোকার হাউজগুলোকে চাবি হস্তান্তর করেছে ডিএসই। একই সঙ্গে মতিঝিল থেকে নিকুঞ্জে নিজস্ব ভবনে যাওয়ার সময় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারণ করেছে ডিএসই। কিন্তু এই মুহূর্তে ব্রোকারদের অনেকেই নিকুঞ্জে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।

ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মতিঝিল থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচানায় যুগের পর যুগ সময় পার হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জকে কেন্দ্র করে পুরো মতিঝিল জুড়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মতিঝিলের আশপাশে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসস্থল। কিন্তু ডিএসই’র নিজস্ব ভবন ঢাকার এক প্রান্তে হওয়ায় সেখানে নতুন করে ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা কর্মচারীদের যাতায়াত খরচ বেড়ে যাবে। এতে মন্দা বাজারে ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজগুলো। তাই এই মুহূর্তে নিজস্ব ভবনে না যাওয়ার পক্ষে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ। একই মত দিয়েছেন ডিএসই উর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্রোকারেজ হাউজের স্বত্বাধিকারী ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘দীর্ঘ মন্দা বাজারে হাউজের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর এই মুহূর্তে নিকুঞ্জে গিয়ে কর্মকাণ্ড চালানো অসম্ভব। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিকুঞ্জে যেতে অনেকেরই অনীহা রয়েছে। তবে যারা মন্দা বাজারে ব্যয় পোষাতে পারছে তারা নিকুঞ্জে যাওয়ার জন্য আগ্রহ আছে।’

এদিকে, ডিএসই’র পর্ষদ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মতিঝিল থেকে নিকুঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ডিএসই’র বিভিন্ন বিভাগ স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।

ডিএসই’র নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের বিষয়ে সংস্থার পরিচালক রকিবুর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘নভেম্বরের সুবিধামতো সময়ে ডিএসইর নিকুঞ্জের ভবন উদ্বোধন করার বিষয়ে পর্ষদের আলোচনা হয়েছে। তারিখ নির্ধারণ করা হলে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে।’

ডিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ডিএসই’র অফিসকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ সদস্য ব্রোকারেজ হাউজগুলো মতিঝিল পাড়ায় গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শাখা অফিসের অনুমোদন বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ পরিস্থিতিতে নিকুঞ্জের নিজস্ব ভবনে ডিএসই স্থানান্তরের পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজগুলো একই ছাদের নিচে থাকবে। নির্ধারিত দূরত্বের বেশি হওয়ার কারণে ডিএসই সদস্য ব্রোকারেজ হাউজগুলো নিজস্ব ভবনে রাখার সুবিধার্থে বিএসইসি’র অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে নিজস্ব ভবনে উঠবে ব্রোকারেজ হাউজগুলো। এতে পরবর্তীতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো মতিঝিল তাদের অফিসের কার্যক্রম চালাতে পারবে। কিন্তু নতুন স্থানে স্থানান্তরের কারণে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যয় বাড়বে। এ ব্যয় অনেকে বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে।

জানা গেছে, ডিএসই কে ১৯৯৬ সালে সরকার চার কোটি টাকায় রাজধানীর খিলক্ষেত-নিকুঞ্জ এলাকায় (বিমানবন্দর সড়কের পাশে) চার বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়। ২০০৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। ওই বছর ২৮ মার্চ ডিএসইর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর ভবন নির্মাণ, স্থাপত্য ও প্রকৌশল কাজের জন্য জিবিবি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৩১ মার্চে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ২০১০ সালের ১৫ জুলাই জিবিবি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ডিএসই। এর পর ভবন নির্মাণ কমিটি পুনঃদরপত্র আহ্বান করে। আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। এর মধ্যে খুশলি নির্মাতা লিমিটেড, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং (এনডিই) ও রেজা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর এনডিইকে কাজ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৩তলা ভবনের কাজ শেষ করেছে। ২০১১-২০১২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুতল ভবনটির সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় ধরা ছিল ১৩২ কোটি টাকার বেশি। নকশা অনুযায়ী, ভবনের আয়তন সাত লাখ ৪১ হাজার ১০৯ বর্গফুট। ভূগর্ভস্থ তিনতলা কার পার্কিংয়ের স্থান বাদে মূল ভবন ১৩তলা। এর প্রথম দুই তলায় থাকবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সাব-স্টেশন, লবি, মিডিয়া সেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। চতুর্থ তলা ডিএসইর অফিসের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। পঞ্চম তলা থেকে ১১ তলায় ব্রোকারেজ হাউস ও শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থাকবে। অডিটরিয়ামের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ তলার কিছু অংশ ও ১৩তলা। ভবনে ওঠা-নামায় যাত্রীবাহী লিফটের সঙ্গে থাকছে একটি কার্গো লিফট।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪২১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged