ডিএসই-কে বিনামূল্যে প্রযুক্তিগত ও পরামর্শ সেবা দেবে চীনা জোট

সময়: রবিবার, জুলাই ২৮, ২০১৯ ৫:১৬:১৪ পূর্বাহ্ণ


এম সাইফুল শুভ : কৌশলগত অংশীদারের শর্ত হিসেবে বিনামূল্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে প্রযুক্তিগত ও পরামর্শ সহায়তা দেবে চীনা জোট। যার আর্থিক মূল্য হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যেই এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ডিএসই-তে জমা দিয়েছে ‘শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ-এর কনসোর্টিয়াম’ (চীনা জোট)। ডিএসই’র ট্রেডিং সার্ভিল্যান্স সফ্টওয়্যার ও অন্যান্য খাতে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।
জানতে চাইলে ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারি ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘এ বিষয়ে চীনা জোটের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা এসেছে। বর্তমানে এটির যাচাই-বাছাই চলছে। কী ধরনের প্রযুক্তি সুবিধা দেয়া হবে এবং সেটি বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনেরও পরামর্শ নেয়া হবে।’
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)-এর সভাপতি শাকিল রিজভী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের কাছে চীনা জোটের একটি প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিবাচক। চীনা জোটের প্রযুক্তি নিতে পারলে ডিএসই লাভবান হবে। তারা প্রযুক্তি ও পরামর্শদাতা হিসেবে বিশ্বজুড়েই সমাদৃত। তবে সেক্ষেত্রে আগে স্টক ডিএসই-কে সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑ কীভাবে সে প্রযুক্তি কাজে লাগাবে। কোন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কোন ক্ষেত্রে পরামর্শ সহায়তা নেয়া হবে।’
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম গত বছর সেপ্টেম্বরে ডিএসই’র ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। শেয়ার বাবদ ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৫ টাকা ডিএসই’কে দেয় চীনা জোট। সেই হিসেব অনুযায়ী ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ শেয়ার চলে যায় চীনা জোটের হাতে। চীনা জোট আসার আগেই তাদের প্রস্তাবনায় এ সংক্রান্ত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে তারা কাজ করছে বলে জানা গেছে।

চীনা কনসোর্টিয়াম এসএমই ক্যাপিটাল মার্কেট উন্নয়ন, পণ্যে বৈচিত্র্য আনয়ন, ইনভেস্টর রিলেশন সার্ভিস অটোমেশন ফ্রেমওয়ার্ক, মানবসম্পদ উন্নয়ন, লেনদেন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কারিগরি উন্নয়নে সহায়তা করবে। ইউরোপিয়ান ও গ্লোবাল মার্কেটে ডিএসই’র প্রবেশেও সহযোগিতা করার প্রস্তাব ছিল চীনা এক্সচেঞ্জের জোটের। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পকে আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আনতে কাজ করতে সহযোগিতা করবে জোট। দরপত্রে ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ভিশন নিয়ে ধারণা দিয়েছিল।

শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শেনজেন স্টকে প্রধান পণ্য চারটি, যথা- ইক্যুইটি, বন্ড, সিকিউরিটাইজেশন পণ্য ও ফান্ড। সেখানে পঞ্চম প্রজন্মের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে শেয়ার কেনাবেচা হয়। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান পণ্য চারটি, যথা- ইক্যুইটি, বন্ড, ফান্ড ও ডেরিভেটিভস। আর ডিএসই’তে পাঁচটি পণ্য থাকলেও নিয়মিত কেনাবেচা হয় দু’টির। অন্য পণ্যগুলো চালু করতে ডিএসই’তে কারিগরি ও আইনগত সহায়তার অভাব রয়েছে। এসব খাতে ডিএসই’-কে সহযোগিতা করবে চীনা জোট।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৫১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged