NBR

অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত

তামাকে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমালো এনবিআর

সময়: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৯ ১০:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগে বিড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক ছিল ৩৫ শতাংশ। হঠাৎ করে বাজেট পাসের তিন মাস পার হতেই সেটি কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, তামাকের ব্যবহার কমাতে সরকার প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে কর, মূল্যসংযোজন কর (মূসক) ও শুল্ক বাড়ানো নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিবছর তামাকজাত পণ্যে তথা বিড়ি, সিগারেট ও জর্দার ওপর রাজস্ব হার বাড়াচ্ছে। চলতি বাজেটেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর হঠাৎ করে এনবিআর এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে চলতি মাসেই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এনবিআর পরিদর্শনে এসে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বাজেটের পর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। কারণ রাজস্ব আদায়ে গত অর্থবছরেই (২০১৮-১৯) ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
বৈঠকে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, ‘বাজেটের প্রতিটি দাঁড়ি-কমা পালন করতে হবে। এটি অর্থবিলের মাধ্যমে আইন হিসেবে সংসদে পাস করা হয়েছে। যদি কোনো পরিবর্তন করতে হয়, সেটি আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে করতে হবে।’
জানা গেছে, এনবিআরের মূল্যসংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিভাগ থেকে হঠাৎ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যন্ত্রের সাহায্য ব্যতীত হাতে তৈরি ফিল্টার বিযুক্ত বিড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ করা হলো। ৮ শলাকার বিড়ির প্যাকেটের মূল্য ৪ টাকা ৪৮ পয়সা, ১২ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ৬ টাকা ৭২ পয়সা এবং ২৫ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই অব্যাহতি ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঠিক কী কারণে অব্যাহতি দেয়া হলো সঠিক বলতে পারবো না। তবে বিড়ি শিল্পে অনেক শ্রমিক কাজ করে এ বিষয়টি বিবেচনা করে হয়তো ছাড় দেয়া হয়েছে। এতে করে সরকারের খুব বেশি রাজস্ব কমবে না’ বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে সম্পূরক শুল্ক কমানোর পরও এখাত থেকে রাজস্ব বাড়বে বলে দাবি করেন বিড়ি শিল্পের সভাপতি। কিন্তু ঠিক কীভাবে বাড়বে তার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। তবে মূসক ফাঁকি বা ভূয়া ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি শ্রী বিজয় কৃষ্ণ দে ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘বিড়ি শিল্পের অবস্থা ভালো না। অধিকাংশ কারখানার মালিক লোকসানে রয়েছে। সেজন্য এনবিআরকে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে এনবিআর। এতে বিড়ি শিল্পের রাজস্ব ফাঁকি কমবে’ বলে মনে করেন তিনি।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫১৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged