পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভুত ২৭ বীমা কোম্পানি

তালিকাভুক্তির সক্ষমতা ৯ বীমা কোম্পানির

সময়: বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯ ১০:২০:০২ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : তালিকাবহির্ভুত ২৭টি বীমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৯টির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত এ কোম্পানিগুলোই আর্থিকভাবে শক্তিশালী। কোম্পানিগুলোর এ সংক্রান্ত রোডম্যাপ পর্যালোচনা করে এমন চিত্রই উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
আর্থিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন ৫ ও পুরোনো ৪টি বীমা কোম্পানি রয়েছে। নতুন কোম্পানিগুলো হলো-গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, এলআইসি বাংলাদেশ লিমিটেড, সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। পুরোনো কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কৃস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
গতকাল তালিকাবহির্ভুত ২৭টি বীমা কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি জানতে এক বৈঠকে বসে আইডিআরএ। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধিরা। তালিকাবহির্ভুত বিমা কোম্পানিগুলো কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে সে বিষয়েই গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্থিকভাবে দুর্বল ১৮ বীমা কোম্পানিকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়মানুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরামর্শ দেয়। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্তির সময়সীমা বেধে দেয়া হলেও কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে তা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আইডিআরএ সদস্য ড. এম মোশাররফ হোসেন ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, কোম্পানিগুলোর রোডম্যাপ পর্যালোচনা করে যা বোঝা গেছে তা হলো এখন পর্যন্ত ৯টি বীমা কোম্পানির তালিকাভুক্তির সক্ষমতা রয়েছে। বাকিগুলোর আরও সময় লাগবে।
বীমা খাতের কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু তিন বছর সময়সীমা পার হওয়ার পরও ২৭টি বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে পুরনো কোম্পানি ১২টি ও নতুন ১৫টি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক তালিকাবহির্ভুত কোম্পানিগুলোকে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয় আইডিআরএ। অন্যথায় বীমা আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি। তবে সময় বেধে দেয়ার পরও গত আড়াই মাসে মাত্র দু’টি কোম্পানি বিএসইসি’র কাছে তালিকাভুক্তির আবেদন করেছে। সেগুলো হলো- সাধারণ বীমা খাতের দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
উল্লেখ্য, পুরনো যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স । এর মধ্যে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স তালিকাভুক্তির আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তারা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছ থেকে অনুমোদন পায়নি।
২০১৩ সালে নতুন ১৫টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেয় আইডিআরএ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কয়েকটি কোম্পানি দু’বছর সময় বাড়িয়ে নেয়। কিন্তু সে সময় পার হওয়ার পরও কোম্পানিগুলো এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারের বাইরেই রয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা নতুন জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে আলফা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রটেকক্টিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া নতুন সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিকদার ইন্স্যুরেন্স ও সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫৬৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged