editorial

দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আয় বৈষম্য

সময়: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯ ৪:৫৫:২৬ অপরাহ্ণ


বর্তমানে দেশে কোটিপতির সংখ্যা পৌনে দুই লাখের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি পঞ্জিকা বছরের গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে ১ কোটি টাকার অধিক আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৩৯৬ জন এবং ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৯৬ হাজার ৩৬০ জন। এটা হচ্ছে ‘রেকর্ডেড’ কোটিপতির সংখ্যা। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে, এর বাইরে ‘আন-রেকর্ডেড’ কোটিপতির সংখ্যা কতোÑ এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটাই কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে অবৈধ বিত্তের মালিকরা স্বনামে-বেনামে একাধিক একাউন্টে কিংবা নিজস্ব কোনো ব্যবস্থায় টাকা রাখতে পারেন। তাদের শনাক্ত করা কঠিন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট কোটিপতির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৫৬৩ জন এবং ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ১৬৫ জন। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুন ২০১৯) মোট কোটিপতির সংখ্য বেড়েছে ১০ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে আমানতকারী বেড়েছে ৪ হাজার ৮৩৩ জন এবং ঋণগ্রহীতা বেড়েছে ৫ হাজার ১৯৫ জন।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের আমলেই কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। প্রতিবার রাষ্ট্র ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এক শ্রেণির নব্য কোটিপতির উত্থান ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। দেখা যাবে, আগামীতে যে সরকার আসবে, তখনও এ সংখ্যা আরও বাড়বে এবং এটা বাড়তেই থাকবে, কমবে না। তবে কারা এসব বিত্তের মালিক হচ্ছেন এবং এর ফলে অসাম্য বাড়ছে কি নাÑ এসব নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।
তাদের মতে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যে ধরনের অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, সেটা ছিল ‘ওয়েলফেয়ার ইকোনমি’। কিন্তু ১৯৭৫-এর পর সেটা হয়ে গেছে ‘পুঁজিবাদী অর্থনীতি’। আর পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে টাকা কামানোটাই বড় কথা।

Share
নিউজটি ৪৯০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged