নির্ধারিত সময়ে আইপিও অর্থ ব্যবহারে ব্যর্থ প্যাসেফিক ডেনিমস

সময়: সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯ ৩:৩৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : নির্ধারিত সময়ের পর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি ‘প্যাসেফিক ডেনিমস’। কোম্পানিটির আইপিও অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। গত জুলাই শেষে কোম্পানিটি আইপিও অর্থের ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে আরো সময় চায় কোম্পানিটি।
জানা যায়, আইপিও’র অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে ইতোমধ্যেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছে প্যাসেফিক ডেনিমস কর্তৃপক্ষ।
সূত্র মতে, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানিটি আইপিও অর্থের মোট ৫১ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ১৪৭ টাকা বা ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ খরচ করেছে। তবে এখনো ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ২৩ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৮৫৩ টাকা খরচ করতে পারেনি। আর গত জুলাই মাসের হিসাবে দেখা গেছে, কোম্পানিটি তার ব্যাংক ঋণ এবং আইপিও বাবদ খরচ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। আর আইপিও বাবদ খরচ করা হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ২৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৩ টাকা, যার মধ্যে খরচ হয়েছে ২৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ১৪৭ টাকা। অবশিষ্ট রয়েছে ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৩ হাজার ৫৭৬ টাকা। আর মেশিনারিজ ও সরঞ্জামাদি কিনতে বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ২৭৭ টাকা। তবে পুরোটাই অর্থ এখনও খরচ করতে পারেনি প্যাসেফিক ডেনিমস কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির আইপিও তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত সুদ বাবদ আয় এসেছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯০২ টাকা। এখন আইপিও ও সুদ মিলে কোম্পানির কাছে মোট ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৫ টাকা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিটির সহকারী সচিব সুমন সরকার ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘কোম্পানির ভবন নির্মাণের কাজ সিংহভাগ শেষ হয়েছে। তবে মেশিন কিনতে সময় লেগে যাচ্ছে। সাপ্লাইয়ার বলছে, কয়েক মাসের মধ্যে মেশিন শিপমেন্ট হয়ে যাবে। কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছে। আশা করছি, আগামী নভেম্বরের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করা যাবে।’
২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর ৫৮২তম কমিশন সভায় প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেডকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটি এ অর্থ ব্যবহার করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ভবন নির্মাণ এবং মেশিনারিজ কিনতে চায়, যা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যবহার সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে, কোম্পানিটির মোট রিজার্ভ রয়েছে ৬৬ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্বল্পমেয়াদে ঋণ রয়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদে ঋণ রয়েছে ৫১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ১০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট, ডায়লোটেড ইপিএস অনুয়ায়ী পিই রেশিও ১২ দশমিক ২৪ পয়েন্ট এবং সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ৯ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট।

৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ সুপারিশ করে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৬৫ পয়সায়। এছাড়া নয় মাসে (জুলাই ’১৮-মার্চ ’১৯) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। আর ৩ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩৮ পয়সা। এসময়ে কোম্পানির এনএভি হয়েছে ১৫ টাকা ৭৬ পয়সা।
‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ২০ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার, বিদেশিদের কাছে রয়েছে দশমিক ০১ শতাংশ এবং ৪৮ দশমিক ০৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে। কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছিল এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৯১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged