বকেয়া ভ্যাট কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চায় ব্রোকারেজ হাউজগুলো : ছয় বছরের ভ্যাট ফাঁকি খতিয়ে দেখছে এনবিআর

সময়: সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯ ৭:১৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিগত ৬ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন তলব করেছে। বিগত বছরগুলোতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো সঠিকভাবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দেয়নি বলে মনে করছে সংস্থাটি। সেজন্যই বর্তমানে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই চলছে। এদিকে অব্যাহত লোকসানে চলতে থাকা ব্রোকারেজ হাউজগুলো এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে।

জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছে গত ২০১৮-’১৯ অর্থবছরের জুন থেকে আগের ছয় বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন চেয়েছে কাস্টমস এক্সাইজ ও বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাধারণ আদেশ নং ০৬/মূসক২০১৮ ভিত্তিতে কাস্টমস এক্সাইজ ও বন্ড কমিশনারেট এ তথ্য চেয়ে গত ২৫ এপ্রিল ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে চিঠি দেয়। ওই চিঠির ভিত্তিতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ২৩ মে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন (ডিবিএ) নেতৃবৃন্দ কাস্টমস এক্সাইজ ও বন্ড কমিশনারেটের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে ডিবিএ জানতে চেয়েছিল বাজারের মন্দা পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কেন ছয় বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন চেয়েছে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
তখন ডিবিএকে জানানো হয়, ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেনের ওপর কোনো ভ্যাট নেই। তবে ব্রোকারেজ হাউজের অফিস ভাড়া, মালামাল ক্রয় ও দৈনন্দিন খরচ ভ্যাটের আওতার বাইরে নয়। তাই ভ্যাট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন এখান থেকে হয়তো এনবিআর আরও ভ্যাট পাবে। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে বলা হয়েছে, গত ১০ বছর যাবত তারা লোকসানের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেক্ষেত্রে এখন যদি এক সঙ্গে ছয় বছরের ভ্যাট দাবি করা হয়, তাহলে আরও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়বে তারা। এজন্য ব্রোকারদের পক্ষ থেকে কিস্তি সুবিধা বা পর্যায়ক্রমে বকেয়া ভ্যাট দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।
এদিকে কাস্টমস এক্সাসাইজ ও বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছয় বছরের তথ্য যাচাই করে যদি প্রমাণিত হয়, কারো ভ্যাট কিছু পরিশোধ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে তারা সেটা সমন্বয় করে নেবে। আর যদি ফাঁকি দিয়ে থাকে তাহলে পুরোটাই আদায় করা হবে।
এ বিষয়ে ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে, তারা কঠোর হবে না। তারা প্রাথমিকভাবে যাচাই করছে কারো বকেয়া বা ফাঁকি আছে কিনা। আর ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন যেহেতু ভ্যাটমুক্ত, তাই আনুষাঙ্গিক খরচ হিসেব করে তারা জানাবে। যদি কারো পাওনা থাকে সেটা সে দেবে।
শাকিল রিজভী আরো বলেন, যেহেতু ব্রোকারদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বিগত ১০ বছর যাবত লোকসানে। তাই আমরা দাবি জানিয়েছি, তারা যেন কিস্তিতে দিতে পারে। এ বিষয়ে ভ্যাট কর্মকর্তারা ইতিবাচক সাড়া দেবে বলেন আশাবাদী। এ নিয়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে মর্ডান সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীন মুন্নী দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, অনেক ব্রোকারেজ হাউজ আগে থেকেই বাড়ি ভাড়ায় ভ্যাট দিয়ে আসছে। তবে যেহেতু আবার নতুন করে তথ্য চেয়েছে, আমরা সব তথ্য দিয়ে দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে তিনিও মনে করেন একেবারে ছয় বছরের ভ্যাট দাবি করলে এই মুহূর্তে ব্রোকারেজ হাউজগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে ব্রোকারেজ হাউজগুলো বলছে, এনবিআর যে পরিমাণ ভ্যাট আদায় হবে বলে মনে করছে, সে তুলনায় ভ্যাট এখান থেকে পাবে না। কারণ ব্রোকারেজ হাউজের ব্যয়ের খাত খুবই কম। যদি অযাচিত কিছু দাবি করে, সেক্ষেত্রে ন্যায় বিচার চেয়ে মামলাও করতে পারবে ব্রোকাররা।
এদিকে এনবিআর সূত্র বলছে, নিয়মিত যারা ভ্যাট কর্মকর্তা হিসেবে হাউজগুলোতে আসে- তারা ব্রোকারেজ হাউজ থেকে আরও ভ্যাট পাওয়া যেতে পারে এটি জানতো না। এটি প্রথমে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের নজরে আসে। এর প্রেক্ষিতে এনবিআর এ পদক্ষেপ নেয়।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged