বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাসা-বাড়ির বীমা

সময়: সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯ ৯:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : সরকারি-বেসরকারি বাসা ও বাড়ির সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক হচ্ছে বীমা। সম্প্রতি ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ (আইডিআরএ)-এর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।
আইডিআরএ বলছে, বাসা বাড়ির বীমা এক ধরণের সম্পত্তির বীমা। এই বীমা প্রডাক্ট ব্যক্তির বাড়ি বা বাড়ির সম্পত্তিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়। তাছাড়া এ ধরনের বীমায় বাড়ি বা বাড়ির সম্পত্তির দুর্ঘটনার বিপরীতে লোন কাভারেজ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে আইডিআর-এর নির্বাহী পরিচালক খলিল আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাসা-বাড়ির বীমা করা হয়, যাকে গৃহ বীমা বা হোম ইন্স্যুরেন্স বলা হয়। আমাদের দেশে এটি এখনো চালু না হলেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ ও বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর এক মতবিনিময় সভায় সরকারি-বেসরকারি বাসাবাড়ি ও ভবনের বীমা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি খাত সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনাকাক্সিক্ষত নানান ধরনের ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাসাবাড়িকে সুরক্ষিত রাখতে গৃহ বীমার বিকল্প নেই’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, বাসাবাড়ির বীমা প্রিমিয়াম নির্ভর করে অন্য অনেকগুলো বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে সম্পত্তির আয়তন, বয়স, বাড়ির অবস্থান, পুনঃনির্মাণের খরচ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র এবং মূল্যবান জিনিসের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, বাসাবাড়ির বীমা পলিসির ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। যার মধ্যে একটি মৌলিক বিল্ডিং পলিসি। এ ধরণের বীমা পলিসি, ভূমিকম্প, বন্যা, ঝড়, দাবানলের মতো দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় বাড়িকে নিরাপত্তা দেবে।
আবার বৃহত্তর বীমা পলিসিতে মানুষের সম্পৃক্ততায় বাড়ির যে ক্ষতি হয় তার নিরাপত্তা দেয়া হয়।
বাসাবাড়ির বীমাতে দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই যতটুকু ক্ষতি হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি নিযুক্ত সার্ভেয়ার দাবি অনুমোদিত হবার পূর্বে, ক্ষয়ক্ষতি হিসাবের জন্য বাড়ি পরিদর্শন করে। প্রয়োজনে একাধিক সার্ভেয়ার নিয়োগ করে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপন করা হবে।
জানা গেছে, বাসাবাড়ির বীমায় গৃহস্থালি জিনিসপত্রের নিরাপত্তা দেয়া হলেও নির্দিষ্ট কিছু আইটেম থাকে যা বীমার দাবির অন্তর্ভুক্ত হবে না।
সভা সূত্রে জানা যায়, সরকারি ও বেসরকারি অনেক সম্পদ বা প্রকল্পের বীমা আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বীমা শিল্পের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজান বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, মত বিনিময় সভায় আরও বেশ কিছু প্রস্তাবনা আসে খাত সংশ্লিষ্টদের থেকে। যার মধ্যে রয়েছে জীবন বীমা পলিসি হোল্ডারদের পলিসি বোনাসের উপর ৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স মওকুফ, পুনঃবীমা কমিশনের বিপরীতে ১৫ শতাংশ উৎসে মূল্যসংযোজন কর মওকুফ, কর্পোরেট করহার ৩৫ শতাংশ ধার্য করা। এছাড়াও সাধারণ বীমা করপোরেশনকে পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা, নন লাইফ বীমার আওতামুক্ত স্বাস্থ্য বীমার উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ, কৃষি বীমার প্রিমিয়ামের উপর মূল্যসংযোজন কর ও করপোরেট কর রহিতকরণ । বীমা খাতে দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বীমা একাডেমিকে আইডিআরএ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভুক্ত করা, অনলাইন বীমা পলিসি চালুর ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর চালু এবং অনলাইনভিত্তিক বীমা প্রিমিয়ামের ওপর মূল্যসংযোজন কর রহিতকরণ।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫৮০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged