বিএসইসি বরাবর চিঠি দেবে বিএমবিএ : আত্মীয়দের বিনিয়োগের তথ্য দিতে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের অনীহা

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ ৬:১৮:১৮ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি পুঁজিবাজারের কিছু প্রতিষ্ঠানের ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেন ও ‘অস্বাভাবিক’ ট্রেড ভলিউম খতিয়ে দেখতে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কাছে পুঁজিবাজারে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বিনিয়োগের তথ্য জানতে চেয়েছে বিএসইসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। এর ফলে আতঙ্ক ও অস্বস্তিতে রয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংকাররা। একই সঙ্গে তারা কিছুটা ক্ষুব্ধও। এমতাবস্থায় তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের তথ্য চাওয়ার প্রেক্ষিতে বিএসইসি বরাবর চিঠি দেবেন তারা। মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (বিএমবিএ)-এর পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার এ চিঠি দেয়া হতে পারে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ বিএমবিএ কার্যালয়ে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সভায় অংশ নেয়া এক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’কে বলেন, গত মঙ্গলবার বিএসইসি’র সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বৈঠকে আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) হিসাব আছে কি নাÑ জানতে চাওয়া হয়। আগামী রোববারের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। সাম্প্রতিক বাজার পতনের প্রেক্ষাপটে বিএসইসি গঠিত তদন্ত কমিটি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এসব তথ্য দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এমন কী এসব তথ্য বিএসইসি’র কাছে রয়েছে বলেও তাদের সতর্ক করা হয়েছে। যদি কেউ তথ্য না দিতে চায়, সেক্ষেত্রে তারা ফেঁসে যাবেন। এটি নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরাসরি পোষ্য না হলে সে ব্যক্তির লেনদেনের দায়ভার কেন মার্চেন্ট ব্যাংক নেবে? একজন দূরতম সম্পর্কের আত্মীয় যদি শেয়ারবাজারে লেনদেন করে থাকে, তার দায় নিশ্চয় মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা নেবে না। এটি নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সেখানে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কাছে এসব তথ্য চেয়ে বিএসইসি তাদের প্রতিপক্ষ মনে করছে।
এদিকে বিএসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছ শীর্ষ ৫০ লেনদেনকারীর তথ্য চেয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। শীর্ষ গ্রাহকদের তথ্য তারা সব সময় দিয়ে থাকে। এটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছে না তারা। পাশাপাশি বাজারে তারল্য সঙ্কটের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। সেক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর যতোটুকু সাধ্য আছে, তারা তা বিনিয়োগ করবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের কাছে খুব বেশি অর্থ নেই। ফলে এ বিষয়ে সরকার কোনো তহবিল বা পুনঃঅর্থায়ন চালু করতে পারে।

এছাড়াও বৈঠকে যেসব কোম্পানির পরিচালকদের হাতে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, তাদেরকে আগামী একবছর সময় দেয়ার প্রস্তাবও জানানো হবে। বর্তমান বাজার পতনের পেছনে এটিও একটি কারণ বলে মনে করছে মার্চেন্ট ব্যাংকররা। পাশাপাশি তারা নতুন কোম্পানি নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও এই কারণগুলো সামনে আনে। ফলে এ বিষয়ে তারা একটি প্রস্তাবনা দেবে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged