বিনিয়োগকারীদের সংবাদ সম্মেলন আজ

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৯ ৯:৩৭:২২ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারের চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং নিঃস্ব হওয়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করবে ‘বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ’। সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে লিখিত বক্তব্যে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনয়ন, টানা ধসের কারণ অনুসন্ধান, কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু দাবি জানানো হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অব্যাহত দরপতনের কবলে পড়ে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন পুঁজি হারাচ্ছেন। পুঁজি হারিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হচ্ছেন। দর পতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভও করতে পারছেন না। মামলা করে ডিএসই আমাদের বিক্ষোভ করতে দিচ্ছে না। শেয়ারবাজারের এখন যে অবস্থা তাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করা যাবে না।’

একই বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ থেকে ফোর্সসেল করা হচ্ছে। নীতি নির্ধারণী মহল থেকেও জোরালো কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।’

জানা যায়, সংবাদ সম্মেলনে বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে। দাবিগুলো হলোÑ মিথ্যা স্টেটমেন্ট ইস্যু করে ভুয়া বন্ধ কোম্পানির শেয়ার এনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফকির করে দেয়ার অপরাধে বিএসইসি এর সম্পূর্ণ কমিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং জড়িতদের দ্রুত অপসারণ করা;
সেকেন্ডারি মার্কেটকে গুরুত্ব না দিয়ে আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) মার্কেটকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীর টাকা কোম্পানির মালিক পক্ষের কাছে যাওয়ার পথ হিসেবে আইপিও বন্ধ করা; আর সীমিত আকারে অনুমোদন দিলে যাদের সেকেন্ডারি মার্কেটে ইনভেস্ট আছে শুধু তাদেরকে আইপিও আসার অনুমতি দেয়া এবং অবশ্যই সেটা একটা নির্দিষ্ট এমাউন্টের উপর হতে হবে ।
রপ্তানিতে গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত কোম্পানি ‘এসপি সিরামিক’ নো ডিভিডেন্ড দিচ্ছে তা জেনেও বিএসইসি ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের এই দুর্নীতির জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা।
ডি-লিস্টিং করে মালিকপক্ষকে জিতিয়ে বিনিয়োগকারীদের ফকির করা হচ্ছে। ডি-লিস্টিং কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া। প্রয়োজনে ডিলিস্টিং হওয়া কোম্পানি মার্কেট এ ফেরত আনা। কোম্পানি নো ডিভিডেন্ড দিলে ওটিসি তে না পাঠিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ডিভিডেন্ড দিতে বাধ্য করা। প্লেসমেন্ট এর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা নেয়ার পথ বন্ধ করা।
কোম্পানি ইচ্ছে মতো ইপিএস, ডিভিডেন্ড দিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে আসছে। বিএসইসি এগুলো দেখেও কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তাদের বিচারের আওতায় আনা।
সিডিবিএল এ শেয়ার লকিং থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ডিরেক্টর শেয়ার বিক্রি করে Ñতা তদন্ত করা এবং এই অনৈতিক কাজের সুযোগ করে দেয়ার অপরাধে সিডিবিএল-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা।
দ্রুত ‘বাই ব্যাক আইন’ বাস্তবায়ন করা এবং এই আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় বিএসইসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণ করা।
প্রতিটি কোম্পানির এজিএমগুলোকে লাইভ টেলিকাস্ট করা, যাতে বিনিয়োগকারীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে সক্ষম হন । স্পন্সর ও ডিরেক্টরদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করা।
শেয়ার এর দাম বাড়লে কোয়ারি দিচ্ছেন; কিন্তু কমে ফেস ভ্যালুর নিচে চলে আসে তখন তদন্ত করা হয় না। দাম বাড়ার পাশাপাশি অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তদন্ত করা ইত্যাদি।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged