editorial

বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হোক

সময়: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯ ৬:১৩:০৬ অপরাহ্ণ


পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত ২৭টি বীমা কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না এ মর্মে গতকালের দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন এ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তালিকাবহির্ভূত বীমা কোম্পানিগুলোকে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তালিকাভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ বীমা কোম্পানিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তপূরণে সক্ষম হচ্ছে না। ফলে চাইলেও বীমা কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারছে না। প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭টি বীমা কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৯টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ করেছে। যেসব বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মতো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে তাদের মধ্যে নতুন বীমা কোম্পানি ৫টি এবং পুরনো বীমা কোম্পানি ৪টি। বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) সম্প্রতি এক সভায় বীমা কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। সভায় অন্যদের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত বীমা কোম্পানিগুলো এখনো কেনো তালিকাভুক্তির পর্যায়ে আসেনি তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তালিকাভুক্তির ব্যাপারে বিলম্বের কারণে সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এসব কোম্পানি কীভাবে দ্রুতু পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে পরামর্শ দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী, একটি বীমা কোম্পানি অনুমোদন প্রাপ্তির পর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হবার তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হয়। কিন্তু ২৭টি কোম্পানি এখনো আইনের এ শর্ত পরিপালনে সমর্থ হয়নি। এর মধ্যে ১২টি পুরনো বীমা কোম্পানি এবং ১৫টি নতুন বীমা কোম্পানি এখনো পুুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাইরে রয়ে গেছে। ইতোপূর্বে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বীমা কোম্পানিগুলোর সময়সীমা ২ বছর বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
তালিকাবহির্ভূত বীমা কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে বর্তমানে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাধারণ বিনিয়োগকারিরা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করতে পারছেন না। এর প্রধান কারণ বাজারে ভালো শেয়ারের অভাব রয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলো যদি সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা যেত তাহলে ভালো শেয়ারের সঙ্কট কিছুটা হলেও দূর হতো। বিনিয়োগকারীরা বীমা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারতো। বীমা কোম্পানিগুলো যাতে দ্রুত পুঁজিবাজারে আসতে পারে সে ব্যবস্থা করা হোক আমরা সেটাই চাই।

Share
নিউজটি ৩৪২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged