মন্দা বাজারে প্রমোদ ভ্রমণ যাচ্ছে ডিএসই

সময়: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৯ ৯:২৬:১১ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : রোম যখন আগুনে পুড়ছিল, সম্রাট নিরো তখনও বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘটনার দিকে তখন সম্রাটের কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। ঠিক তেমনি শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনে যখন বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা- তখনই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কনফারেন্সের নামে প্রমোদ ভ্রমণে চীন যাচ্ছেন। এ নিয়ে খোদ ডিএসইর সদস্য ও পরিচালকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় বইছে।
অভিযোগ রয়েছে, কপারটেক ইস্যুতে যারা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তথা সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে, সেসব ব্যক্তিদেরকে নিয়েই এ প্রমোদ ভ্রমণ আয়োজন করা হয়েছে।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছে ডিএসইর চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, স্বতন্ত্র পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, শরীফ আতাউর রহমান এবং ডিএসইর ডিজিএম (প্রকাশনা) শফিকুর রহমানসহ মোট ৩২ জন। এর মধ্যে সংবাদকর্মী ১১ জন, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) ১৬ জন এ ভ্রমণে যাচ্ছেন।
এ সম্পর্কে ডিএসইর পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে’ বলেন, ‘ডিএসইর সদস্যদের কয়েকজন নিজস্ব খরচে যাচ্ছেন। পরিচালক ও সংবাদকর্মী এবং কর্মকর্তাদের ডিএসইর খরচে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জনপ্রতি ৫৫ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। এটা খুব বেশি টাকা নয়।’
কপারটেক ইস্যুতে গণমাধ্যমে যারা লেখালেখি ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের পুরস্কার হিসেবে এ ভ্রমনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যদি এমন কিছু শোনা যায়, তাহলে তদন্ত করা হবে।’
জানা গেছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিনিধি দল চীন ভ্রমনে যাবেন। সেখানে তারা ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত একটি কনফারেন্সেও যোগদান করবেন। শেয়ারবাজারের এ বেহালদশায় প্রমোদ ভ্রমনে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করবে ডিএসই। অথচ বাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে ডিএসই কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে, যা প্রকাশ্যে খোদ বিএসইসি ঘোষণা দিয়েছে।
এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি একেএম মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে’ বলেন, ‘যেখানে বাজারে টানা দরপতন হচ্ছে, সেখানে ডিএসই এতো বড় একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে চীন যাচ্ছে, যা একটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়। আমার মনে হচ্ছে, তারা কোনো কুচক্রীমহলের নিকট থেকে অর্থ পেয়ে এ ভ্রমনে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করা উচিত। একইসঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে একটি শুদ্ধি অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবি জানাই।’
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টানা পতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে। যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন। এ থেকে উত্তোরণের নানা উদ্যোগ নিলেও কোনো ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩০৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged