বিশেষজ্ঞদের অভিমত

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ৫ বছরের পোস্ট-আইপিও দায়িত্ব দেয়া উচিত

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯ ৯:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : বিনিয়োগকারীদের অনেক মুনাফার স্বপ্ন ও লোভনীয় আয় দেখিয়ে পুঁজিবাজারে আসছে কোম্পানিগুলো। কিন্তু বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই হতাশাজনক লভ্যাংশ দিচ্ছে। আবার অনেকে লোকসানি হয়ে যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দোষারোপ করছেন। অথচ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে অন্তত ৫ বছরের জন্য পোস্ট-আইপিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী কোন কোম্পানি বাজারে আসার পর ৫ বছর পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন চাইতে পারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সে হিসেবে কোম্পানির প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত মার্চেন্টগুলো দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এমন কী অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন, আইপিও’র পরবর্তী ৫ বছর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে ইস্যু ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে একজন পরিচালক রাখা উচিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইপিও-তে আসা কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোই খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সমালোচিত কোম্পনিগুলো হচ্ছে, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, ফ্যামেলি টেক্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, তুং হাই নিটিং, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল, জাহিন স্পিনিং ও অলিম্পিক এক্সেসরিজ। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছে। অথচ বর্তমানে অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। এছাড়া প্রিমিয়াম নিয়ে আসা কোম্পানিরও রয়েছে, যেগুলো অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে ইতিমধ্যে এমন উদাহরণও রয়েছে। একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে ইস্যু ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ৫ বছরের ‘করপোরেট গর্ভনেন্স’ তদারকির চুক্তি করেছে। সে হিসেবে তারা কোম্পানির আইপিও পরবর্তী নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। এজন্য বছরে ৫ লাখ টাকা ফি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে মার্চেন্ট ব্যাংকের কাজের একটি পরিধিও বাড়ছে। আবার কোম্পানিগুলোও নজরদারির আওতায় থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ অনেক কোম্পানিই আইপিওর টাকা টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। এতে বিপাকে পরে বিনিয়োগকারীরা। ফলে এ বিষয়টি তদারকির আওতায় আসা উচিত।
অভিযোগ রয়েছে, আইপিও-তে আসার পর অনেক কোম্পানিই এক বছরের মাথায় লোকসানি হয়ে যাচ্ছে। অনেক কোম্পানির উদ্যোক্তারা পলাতক। ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করছে। এজন্য অনেক অডিট ফার্মকে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর উচিত কোম্পানিগুলোর ৫ বছরের দায়িত্ব নেয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক সভাপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘বিএসইসির উচিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠিন নজরদারিতে আনা। আইপিও এনেই দায়সারা হয়ে গেলে চলবে না। বিশেষ করে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তারা যদি অন্তত ৫ বছর পর্যন্ত নজরদারি করে, তাহলে অবশ্যই কোম্পানির চেহারা এমন থাকবে না। বর্তমানে সবার মধ্যেই এক ধরনের দায়সারা ভাব রয়েছে। এটি অবশ্যই বিএসইসি-কে দেখতে হবে। কীভাবে আর্থিক প্রতিবেদন হচ্ছে। না হলে দিনশেষ সব দায় বিএসইসি-কে নিতে হবে।’
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড. আবু আহমেদ শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএসইসি চাইলে প্রচলিত আইনেই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ৫ বছরের দায়িত্ব দিতে পারে। এতে বিএসইসির সুনাম বাড়বে। কারণ ইস্যুগুলো খারাপ লভ্যাংশ দিলে বা লোকসানি হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিএসইসির উচিত মার্চেন্ট ব্যাংককে আরও নজরদারিতে আনা।’

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged