সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির গুজব মিথ্যা

শেয়ারধারণ সংক্রান্ত ১২ বছরের ভুল সংশোধন সিনোবাংলা’র

সময়: রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯ ৯:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত যে গুজব উঠেছিলÑ এর ব্যাখ্যা দিয়েছে কোম্পানিটি। এতে শেয়ার বিক্রির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনিÑ বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যমতে, হঠাৎ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার কোম্পানির তথ্য বিবরণী থেকে সরিয়ে ফেলে স্টক এক্সচেঞ্জ। এতে বিষয়টি নজরে আসে বিএসইসি’র। বিএসইসি কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে কোম্পানি জানায়, তথ্যগত ভুলের কারণেই এমনটি হয়েছে। অর্থাৎ গত ১২ বছর ধরে শেয়ার ধারণ নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে আসছিল কোম্পানিটি।
মূলত কোম্পানিটিতে ২ জন বিদেশি পরিচালক রয়েছেন, তারা মোট ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ (চেয়ারম্যান ৭.৫৫ শতাংশ এবং পরিচালক ২.০৩ শতাংশ) শেয়ার ধারণ করছেন। কোম্পানিটি ভুল করে এ পরিমাণ শেয়ার দুই জায়গায় (উদ্যোক্তার অংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশ) প্রকাশ করে আসছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশে ওই সম-পরিমাণ শেয়ারধারণ কম দেখিয়ে আসছে। যখন কোম্পানিটি বিষয়টি বুঝতে পারে তখন শেয়ারধারণে সংশোধনী আনে। এই দুই পরিচালক ছাড়া কোম্পানিটিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীর কোনো শেয়ার হোল্ডিং ছিল না কিংবা কোনো বিদেশি শেয়ার বিক্রিও করেনি।
৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ারহোল্ডিং দেখানো হয় ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ দেখানো হয় ৫৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। যা ৩১ জুলাই ২০১৯ শেষে বিদেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ারহোল্ডিং দেখানো হয় ০ শতাংশ। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ দেখানো হয় ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
এদিকে কোম্পানির শেয়ার ধারণের এই ভুল তথ্যের কারণে ‘বিদেশিরা সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন’Ñ এই গুজবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি সূত্র বলছে, কোম্পানি কয়েক বছর ধরে এমন ভুল দেখিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটির শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত তথ্য নেয়া হয়েছে। এখন বিএসইসি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিষয়টি নিয়ে সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা মো. শাহজালাল কোম্পানি সচিবের বরাত দিয়ে ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘প্রায় ১২ বছর আগে থেকে এই ভুল হয়ে এসেছে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর শেয়ারধারণ সংশোধন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ডিএসই এবং বিএসইসির কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। আর এখানে শেয়ার বিক্রির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধু ভুলের সংশোধন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ১৫০ টন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কিছু মূলধনী যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো হচ্ছেÑ ২০ সেট লুম, ৬ সেট নিডল লুম, ৩৫ সেট সুইং মেশিন, টুয়িস্টিং মেশিন, ব্যালে প্রেস, এয়ার ওয়াস মেশিন, লুপ কাটিং মেশিন, লাইনার শেপিং মেশিন, ১ সেট করে বাফেল পাঞ্চিং মেশিন, এক ইউনিট এভাপরেট এয়ার সিস্টেম, ফেব্রিক কাটিং মেশিন ও ২ সেট র‌্যাপিং মেশিন। এছাড়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও ২টি মেঝে সংস্কারে প্রায় ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। যা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে অর্থায়ন করা হবে।
এদিকে, কোম্পানিটির মোট রিজার্ভ রয়েছে ২৩ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। স্বল্প মেয়াদে ঋণ রয়েছে ১৬ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদে ঋণ রয়েছে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ৪৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট, সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ৪১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট।
গত ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ৭১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ২৬ টাকা ৯৩ পয়সায়। আর ৯ মাসে (জুলাই, ১৮-মার্চ, ১৯) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। আর ৩ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬৫ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬২ পয়সা। এসময়ে কোম্পানির এনএভি হয়েছে ২৭ টাকা ২৭ পয়সা।
‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ১৯৯৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার এবং ৬২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫০৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged