শেয়ার কেলেঙ্কারি ১৯৯৬

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিপক্ষে বিএসইসি’র হাজিরা আজ

সময়: সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯ ৭:১৫:১৪ পূর্বাহ্ণ


নুরুজ্জামান তানিম :

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দায়ের করা শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার হাজিরার দিন আজ সোমবার। এ দিন সকালে পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ ট্রাইবুন্যালে রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে বিএসইসি’র সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মামলাটির বিষয়ে হাজিরা দেবেন। বর্তমানে মামলাটি বিএসইসি’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে ছয় মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে। এ স্থগিতাদের মেয়াদ শিগগিরই শেষ হচ্ছে। ফলে হাজিরার এ দিনে রাষ্ট্রপক্ষ মামালাটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিশেষ ট্রাইবুন্যালকে অবহিত করবে।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ ট্রাইবুন্যালের সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেট মো. জালাল শেখ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে বিএসইসি’র দায়ের করা মামলার হাজিরার দিন সোমবার। এ দিন সকালে রাষ্ট্রপক্ষ (বিএসইসি) মামলাটির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আদালতে হাজিরা দেবেন।’

এদিকে শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলাটির সোমবারের হাজিরায় পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইবুন্যালের রাষ্ট্রপক্ষের (বিএসইসি) আইনজীবী মাসুদ রানা খান উপস্থিত থাকবেন বলে ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে আসামিপক্ষ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, হাজিরার সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিচারক মো. আকবর আলী শেখ-এর আদালতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আমিরুল ইসলাম চৌধুরী সাক্ষ্য দেন। এর আগে ১৮ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির বাদী ও সাক্ষী বিএসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এমএ রশীদ খান সাক্ষ্য দেন। এরই আলোকে গত ৭ অক্টোবর তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।
এর আগে গত বছরের ২৯ আগস্ট মামলাটির অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। তবে ওইদিন ট্রাইবুন্যালে হাজির না হওয়ার কারণে এ মামলাটির আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ট্রাইবুন্যাল গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ইস্যু করে।
এর আগে ২৪ জুলাই ট্রাইবুন্যালে উচ্চ-আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কপি দাখিলের মাধ্যমে মামলাটির বিচার কাজ শুরু হয়। ওইদিন আসামিদের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন ট্রাইবুন্যালে মোহাম্মদ ভাইয়ের মৃত্যুর সনদ দাখিল করেন। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি মোহাম্মদ ভাই মারা যান। এর আলোকে মোহাম্মদ ভাইয়ের মৃত্যুর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে ট্রাইবুন্যাল নির্দেশ দিয়েছিল। পরে পুলিশ তার মৃত্যুর সত্যতা আছে বলে ট্রাইবুন্যালকে অবহিত করে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে দায়ের করা অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলাটির কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৩ সাল থেকে স্থগিত ছিল। ২০১৫ সালে মামলাটি পুঁজিবাজার-বিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও শহিদুল করিমের দ্বৈত বেঞ্চ মামলাটির বিচার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ বাতিলের আদেশ দেন। ফলে মামলাটি পুনরায় সচল হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এক্ষেত্রে ১০০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে ২০০ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে রাইট শেয়ার ইস্যু করে কোম্পানিটি। সে সময় এর শেয়ারের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২০০টি। কিন্তু ২০০ টাকা প্রিমিয়ামে মাত্র ৩১ হাজার ৫৯০টি রাইট শেয়ারের আবেদন জমা পড়েছিল। বাকি ১ লাখ ৩ হাজার ৬১০টি শেয়ারের বিপরীতে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। সে সময় কয়েক দফা বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে শেয়ারের দর বাড়িয়েছিল অলিম্পিক। যেখানে ১৯৯৬ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৫৪৯ টাকা, সেটি মাত্র সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে একই বছরের ১৬ নভেম্বর ৪ হাজার ৪৭৫ টাকায় দাঁড়ায়। আলোচ্য সময়ে শেয়ারের দাম বেড়েছিল সাড়ে আট গুণ। পরবর্তী সময়ে একই মালিকের কোম্পানি এমবি ফার্মা বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে টাকা নিয়ে যায়। এরপর থেকেই কমতে থাকে অলিম্পিকের শেয়ার দর। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দর কমে ১ হাজার ৪০ টাকায় নেমে আসে। এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এর দুই উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ভাই ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে বিএসইসি।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৫০৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged