সাবসিডিয়ারিতে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সীমা কমছে

সময়: মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০১৯ ৪:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সীমা কমিয়ে আনা হচ্ছে। আগামীতে মোট সম্পদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যাবে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, জীবন বীমা কোম্পানিগুলো তাদের মোট সম্পদের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। বীমা কোম্পানিগুলোর ‘সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ প্রবিধানমালা ২০১৯‘-এর খসড়ায় এমন প্রস্তাব করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বীমা গ্রহীতাদের স্বার্থে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ ধরনের প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, আইন অনুযায়ী জীবন বীমা কোম্পানির মোট তহবিলের ৯০ শতাংশের মালিক বীমা গ্রাহক এবং বাকি ১০ শতাংশ থেকে লভ্যাংশ দেয়া যাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তবে আইনের এ নির্দেশনা না মেনে তহবিলের অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করছে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। শুধু তাই নয় জীবন বীমা খাতের বেশ কিছু সাবসিডিয়ারি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন। তাদের বেতন-ভাতাও অনেক ক্ষেত্রে মূল কোম্পানির চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তাই বীমাগ্রাহকদের অর্থ যেন কোনোভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ না হয় তা বিবেচনায় জীবন বীমার সাবসিডিয়ারিতে বিনিয়োগের হার বেধে দিচ্ছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ’র সদস্য বোরহান উদ্দীন ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর নতুন বিনিয়োগ বিধিতে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে বিনিয়োগের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি এটা এখনো চূড়ান্ত নয়।’

এদিকে বীমা কোম্পানিগুলোর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে আইডিআরএ। বর্তমানে বীমা কোম্পানিগুলোর সাবসিডিয়ারিতে সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন নেয়া লাগে না। তবে কর্তৃপক্ষের ১১৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে সাবসিডিয়ারিতে সিইও নিয়োগে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বোরহান উদ্দীন বলেন, ‘লাইফ ও নন লাইফ উভয় বীমা কোম্পানিগুলোর সাবসিডিয়ারির সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে কোম্পানিগুলোতে চিঠি পাঠানো হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।‘

জানা যায়, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ডিএলআইসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামে ব্রোকারেজ হাউস খুলে ব্যবসা করছে। এতে মূল কোম্পানির শেয়ার ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯১টি। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। তাতে বীমা কোম্পানিটির ৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে। আর প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেডে রয়েছে কোম্পানিটির ৩ কোটি ৭৫ হাজার শেয়ার। বিডি সানলাইফ সিকিউরিটিজ খুলে ব্রোকারেজ ব্যবসা করছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। তাতে তাদের শেয়ার রয়েছে ১৩ হাজার। মেঘনা লাইফের ৩ কোটি ৯৬ লাখ শেয়ার রয়েছে মেঘনা লাইফ সিকিউরিটিজে এবং পপুলার লাইফের ৯৯ হাজার ৯৯৯টি শেয়ার রয়েছে পপুলার লাইফ সিকিউরিটিজে। সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের রয়েছে দু’টি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। সন্ধানী লাইফ ফিন্যান্স ও সন্ধানী লাইফ হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি খুলে ব্যবসা করছে তারা। গোল্ডেন লাইফের রয়েছে গোল্ডেন হোল্ডিংস লিমিটেড। সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা করছে ইবিএস প্রপার্টিজ লিমিটেড খুলে।

জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি (মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন) নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে দাখিল করতে হবে। কিন্তু তা না করেই এ খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করেছে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged