সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

সময়: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ ৬:১৩:১৭ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাবো। তখন শতভাগ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ উস সামাদ এমপি।

মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর ২৬তম দেশে হিসেবে আবির্ভূত হবে। আর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন পর্যায়ে উন্নীত হবে, এমন গতিশীলতা আসবে। যার ওপর ভিত্তি করে আমরা উন্নত হবো।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ বছরে পৃথিবীর অর্থনীতিতে আমাদের যে প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে তাতে বিশ্বের মধ্যে আমরা এক নম্বরে। এটি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থনীতির এই ভিত করে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে ২১ শতাংশ দারিদ্র্য থাকলেও আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যসীমা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে। তখন কোনো দরিদ্র মানুষ থাকবে না। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর বিশ্বের সেরা ২০টি দেশের একটি হবে।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশের আজকের যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে এর পেছনে আমাদের অনেক ঋণ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের ঋণের পরিমাণ বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। আমরা নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে সক্ষম হয়েছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় বলা হতো বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যত নেই। বাংলাদেশ নামের দেশটি কখনো অর্থনীতিতে এগুতে পারবে না। একদিন বাংলাদেশকে নিয়ে যারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন, ব্যঙ্গ করে কথা বলতেন তারাই আজ বলছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। আর এটি সম্ভব হয়েছে আমরা একজন ভালো নেতা পেয়েছি। তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, শেখ হাসিনাকে আজকে বলা হচ্ছে ভ্যাকসিন হিরো। কারণ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ যে ভ্যাকসিন ব্যবহার করছে তা সবচেয়ে ভালো ভ্যাকসিন। এই ভালো ভ্যাকসিন শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘ থেকে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের জন্য রাজনৈতিক মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সাংস্কৃতিক মুক্তি চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে হত্যা করেছে। আজ তারই কন্যা শেখ হাসিনা একটি উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করেছেন। আজ তার জন্মদিন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. রকিবুর রহমান বলেন, ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া সংগঠন শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ। শিশু কিশোরদের ইতিহাস সচেতন করতে এবং বিকৃত ইতিহাসের হাত থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এই সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু কিশোরদের বিকৃত ইতিহাস থেকে রক্ষা করতে এই সংগঠন কাজ করছে। আমরা কোনো চাঁদাবাজি করি না, নিজেদের টাকা দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করি। সংগঠন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশই আমরা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে খাতা কলম বই বিতরণ করার মাধ্যমে করি। আমরা শেখ হাসিনার সাথে থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged