স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য বাড়ছে

সময়: সোমবার, জুলাই ২৯, ২০১৯ ৫:৫৫:৪০ পূর্বাহ্ণ


নাজমুল ইসলাম ফারুক : পুঁজিবাজার যখন দীর্ঘ মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য বাড়ছে। গতকাল রোববার দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে দর বাড়ার শীর্ষ তালিকায় বেশির ভাগই ছিল স্বল্পমূলধনী কোম্পানি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- মুন্নু সিরামিকস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, দেশ গার্মেন্টস, ইনটেক লিমিটেড, ইস্টার্ন ক্যাবলস, কে অ্যান্ড কিউ, ইমাম বাটন, বিডি ওয়েল্ডিং, মেট্রো স্পিনিং, ডেল্টা স্পিনার্স, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনী কোম্পানি স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে। বিনিয়োগকারীরা মুনাফার আশায় এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কোম্পানিকে নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি এসব কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করে ভালো কোম্পানি বাজারে আনা হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্যের বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিগুলো নিয়ে জুয়াড়িরা খেলা করে। যেসব বিনিয়োগকারী ডে ট্রেডারের ভূমিকা পালন করে, তারা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে চায়। তবে জুয়াড়িদের সঙ্গে তারা পারে না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিএসইসি’র উচিত স্বল্পমূলধনী, দুর্বল কোম্পানিগুলোর উপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনে সেগুলোকে তালিকাচ্যুত করা। পাশাপাশি ভালো কোম্পানি বাজারে আনা জরুরি। তাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তা বাজার স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।’
একই প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘বাজারে সব কোম্পানির দর ওঠানামা করবে- এটাই পুঁজিবাজারের নিয়ম। তবে দুর্বল কোম্পানির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। এসব কোম্পানিতে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলোর দর বাড়ার সীমা অতিক্রম করলে তা খতিয়ে দেখবেন।’
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ মন্দার পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যখন স্বল্পমূলধনী এবং দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়, তখন তা শুভ লক্ষণ নয়। এসব শেয়ার দর বাড়ানোর পেছনে হয়তো কোনো চক্র সক্রিয়। এসব কোম্পানির পিই রেশিও অনুযায়ী বিনিয়োগ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা না বুঝে মুনাফার আশায় এসব কোম্পানিতে যখন বিনিয়োগ করে, ঠিক তখনই চক্রটি মুনাফা হাতিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোকসানে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কোনো দুর্বল এবং স্বল্পমূলধনী কোম্পানির দর টানা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। তাছাড়া এসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত করে ভালো কোম্পানি বাজারে আনলে অস্থিতিশীলতা কাটবে। ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতেই পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএসই’র তথ্যানুযায়ী, বিডি অটোকারসের পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আর কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৩৯ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অথচ ওই কোম্পানির শেয়ার গতকাল রোববার সর্বশেষ ২০৯ টাকা ২০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে কোম্পানির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ১৯ টাকা বেড়েছে। এর আগে গত ২২ জুলাই এ কোম্পানির শেয়ার ১৮৩ টাকা ৭০ পয়সা বেচাকেনা হয়েছিল। এরপর থেকে টানা বেড়েই চলেছে কোম্পানিটির শেয়ার দর। চারদিনের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২৫ টাকারও বেশি।
এদিকে জেমিনী সী ফুডের পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। কোম্পানির পিই রেশিও অবস্থান করছে ২৫১ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। গতকাল রোববার কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ২৩১ টাকা ১০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। এর আগে গত ২২ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ার ২০৯ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়। চার কার্যদিবসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২১ টাকারও বেশি। শুধু বিডি অটোকারস বা জেমিনী সী ফুড নয়, এমন বেশিরভাগ স্বল্পমূলধনী এবং দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দরই কয়েকদিন যাবত বাড়ছে। এর আগে স্বাভাবিক বাজারেও এসব কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে এমন উত্থান দেখা গেছে।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৫৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged