কমপ্ল্যায়েন্স অর্জনে সিকিউরিটিজ আইন শিথিল চায় কোম্পানিগুলো

স্মলক্যাপ প্ল্যাটফর্ম থেকে মোনালিসা সিরামিকের আবেদন প্রত্যাহার

সময়: রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ ৯:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ : পুঁজিবাজারে স্মলক্যাপ প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিরামিক খাতের কোম্পানি ‘মোনালিসা সিরামিকস বিডি লিমিটেড’। সম্প্রতি কোম্পানিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) লিখিতভাবে আবেদন প্রত্যাহার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারিং (কিউআইও)-এ কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১ কোটি টাকা উত্তোলন করতে চেয়েছিল। উত্তোলিত টাকা দিয়ে কোম্পানিটি প্ল্যান্ট এবং মেশিনারিজ সংক্রান্ত কাজে ব্যয় করতে চেয়েছিল। যদিও এই পুরো প্রকল্পটি করার জন্য আরো ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা টার্ম লোন নিতে হচ্ছে কোম্পানিটিকে। তবে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এই মূহূর্তে বাজারে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র জানায়, মাত্র ১ কোটি টাকার জন্য কোম্পানিটি আইপিও’র এতো বিধি-বিধান মানতে পারছে না। কারণ ১০০ কোটি টাকা তুলতে আইনে যেসব কমপ্ল্যায়েন্স মানতে হয়; স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে ১ কোটি টাকা তুলতেও সেই একই কমপ্ল্যায়েন্স মানতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। এতো বিধি-বিধান মেনে অনুমোদন পেতে কোম্পানিটির অনেক সময় লেগে যাবে। এর ফলে কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
বিষয়টি নিয়ে মোনালিসা সিরামিকস-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামীতে এটি মূল মার্কেটে আসবে। তাই আপাতত স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে আসা হচ্ছে না। এ সিদ্ধান্তের আলোকে কোম্পানি কিউআইও আবেদন প্রতাহার করেছে।’
এদিকে কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), রেগুলেটর ও ইস্যু ম্যানেজারের পক্ষ থেকে কোম্পানিকে স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তির আগ্রহ দেখানো হয়েছিল। তবে আবেদনের পর এতো নিয়ম পরিপালনে আগ্রহ হারিয়েছে কোম্পানিটি। তবে তারা আগামীতে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে চায়। সামান্য টাকা তুলতে আইপিও’র বিধি-বিধান শতভাগ পরিপালনে আগ্রহী নয় কোম্পানিটি। স্মলক্যাপ প্ল্যাটফর্মে আইনের কিছুটা কমপ্ল্যায়েন্স শিথিল থাকলে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী হতো মোনালিসা সিরামিকের মতো কোম্পানিগুলো।
স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে আগ্রহী হচ্ছে না মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। কারণ অনেক বেশি পরিশ্রমে ‘ইস্যু ফি’ অনেক কম। স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে স্থির মূল্য পদ্ধতিতে ৩ লাখ টাকা এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৫ লাখ টাকা পাবে একটি কোম্পানি তালিকাভুক্তির ফি হিসাবে। এই একই পরিশ্রমে মূল মার্কেটে একটি কোম্পানি আনতে পারলে অনেক বেশি ফি পাবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। এমতাবস্থায় স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তিতে যদি আইনের ধারা কিছুটা শিথিল করা সম্ভব হয় তবে কোম্পানিগুলো এ বাজারে আসতে আগ্রহী হতো বলে মনে করেন মার্চেন্ট ব্যাংকাররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘স্মলক্যাপ প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিধি-বিধান পরিপালনে কোম্পানিগুলোকে কিছুটা ওয়েভার (অব্যাহতি) দেয়া উচিত। কারণ আইপিও আইনে এতোসব বিধি-বিধান পরিপালন করে মূল মার্কেটের কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে স্বল্প মূলধনের জন্য এতো বিধি-বিধান পরিপালন ও দীর্ঘসময় ব্যয়ে আগ্রহী নয় ছোট কোম্পানির উদ্যোক্তারা। এজন্য এ মার্কেটে কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করতে হলে কিছুটা আইনের ওয়েভার থাকতে হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) স্মলক্যাপ প্লাটফর্ম ইতোমধ্যে উদ্বোধন করেছে। তবে কোনো কোম্পানিকে এখনও তালিকাভুক্ত করানোর জন্য আবেদন করাতে পারেনি। আবার সিএসই একটি কোম্পানিকে আবেদন করালেও তালিকাভুক্ত করাতে পারেনি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে ছোট কোম্পানিগুলো সামান্য কিছু মূলধন যোগাড় করে ব্যবসা বড় করবে। এখানে তালিকাভুক্তির অর্থ মূল মার্কেটে তালিকাভুক্তি নয়। তাহলে কেন মূল মার্কেটে তালিকাভুক্তির আইন শতভাগ পরিপালন করতে হবে। স্মলক্যাপ প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তির জন্য আইনের অপরিহার্য ধারাগুলো পরিপালন সাপেক্ষে অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া উচিত।
স্মলক্যাপ বোর্ডে যেসব কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসবে, সেসব কোম্পানির বিডিং হবে ডাচ অকশন পদ্ধতিতে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা কোম্পানিগুলোর বর্তমান পরিশোধিত মূলধন এবং কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরস অফার (কিউআইও) মিলে ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা হবে।
আর স্থির মূল্য পদ্ধতিতে আসা কোম্পানিগুলোর বর্তমান পরিশোধিত মূলধন এবং কিউআইও মিলে ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা হবে। ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি এই বাজারে থাকতে পারবে না। এই পরিমাণ মূলধনের কোম্পানিকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে হবে।
স্মল ক্যাপ কোম্পানির কিউআইও’তে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবেদন করতে পারবে না। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আবেদন করতে পারবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বলতে ওই প্রতিষ্ঠান বা উচ্চ সম্পদধারী ব্যক্তি; যাদের পোর্টফোলিওতে নেট অ্যাসেট ১ কোটি টাকা। এই বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে।
এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন সংশোধনসহ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার বাই স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানিজ) রুলস ২০১৮-এর চূড়ান্ত অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৬০১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged