অনিয়ম বন্ধ ও গ্রাহক সুরক্ষার জন্য আইডিআরএ-কে শক্তিশালী করা হচ্ছে

সময়: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৫:৫২:৩১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিমা খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জালিয়াতি এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করতে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-কে আরও শক্তিশালী করতে ‘বিমা আইন, ২০১০’-এ বড় ধরনের সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে আইডিআরএ প্রথমবারের মতো বিমা কোম্পানির নথিপত্র তল্লাশি ও সম্পদ জব্দের মতো বিশেষ ক্ষমতা পাবেন। সংশোধিত আইনের খসড়া ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বা কম অর্থে দাবি নিষ্পত্তি, বেআইনি কমিশন লেনদেন বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে আইডিআরএ সরাসরি অনুসন্ধান চালাতে পারবে। চেয়ারম্যানের অনুমোদনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা ভবনে প্রবেশ, লকার বা আলমারি ভেঙে নথিপত্র জব্দ এবং অনুলিপি তৈরি করতে পারবেন। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়া যাবে এবং পুলিশ বাধ্য থাকবে সহায়তা দিতে। তদন্ত চলাকালে তথ্য গোপন বা সহযোগিতা না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নতুন বিধানে আরও বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে এবং তার বক্তব্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কিছু সুরক্ষা কাঠামোও রাখা হয়েছে। যেমন—জব্দ করা নথি সাধারণত ১৮০ দিনের বেশি রাখা যাবে না এবং তদন্ত শেষে ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আইডিআরএ-র তদারকিতে এখন থেকে বিমা কোম্পানির অর্থায়নে পরিচালিত ফাউন্ডেশন ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আনা হচ্ছে।

আইডিআরএ-র চেয়ারম্যান ড. আসলাম আলম জানিয়েছেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে খসড়া এখন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে অনেক গ্রাহক যেমন সাজ্জাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বছরের পর বছর দাবির টাকা পাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াতে হয়; নতুন শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে তাদের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।

 

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged