নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুমোদন ছাড়াই কোনো বিমা পরিকল্প বা পণ্য চালু বা বাজারজাত করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে— এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বিমা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী দায়ী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি ‘সার্কুলার নং-নন-লাইফ ১০৭/২০২৫’ জারি করে আইডিআরএ এই নির্দেশনা দিয়েছে। “বিমা পরিকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নির্দেশাবলি” শিরোনামের সার্কুলারটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মনিরা বেগম।
নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে নন-লাইফ বিমা পরিকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করেছে আইডিআরএ। এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
? ২০১০ সালের পর চালু পরিকল্পে অনুমোদন বাধ্যতামূলক
আইডিআরএর সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের পর অনুমোদন ছাড়া চালু থাকা সকল বিমা পরিকল্পের জন্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। তবে ২০১০ সালের আগে অনুমোদনহীনভাবে চালু থাকা পরিকল্পগুলোকে “ভূতাপেক্ষভাবে অনুমোদিত” বলে গণ্য করা হবে।
? পাইলটিং পর্যায়ে কঠোর নিয়মাবলি
পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) পর্যায়ের বিমা পরিকল্প পরিচালনায় ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা জিএডি সার্কুলার নং ১৫/২০২৩ কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও জানায়, নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে ‘বিমা আইন, ২০১০’-এর ১৩০ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, যদি কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি দায়ী প্রমাণিত হন, তবে আইনের ১৩৪ ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইডিআরএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে— বিমা আইনের বিধান লঙ্ঘনের দায় কেবল কোম্পানির নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তির ওপরও বর্তাবে। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে সংস্থাটি পুরো বিমা খাতে অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম বন্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।


