নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের অন্যতম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড গুরুতর অনিয়ম ও আইন ভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কড়া নজরদারিতে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানিটি ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ অবৈধভাবে বিনিয়োগ করে আত্মসাৎ করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
১৬ দফা অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসইসি ১৬টি সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। সদস্যরা হলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির, উপ-পরিচালক এস. এম. আহসানুল কবির এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।
তাদেরকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে মূলত এলআর গ্লোবালের অধীনে থাকা ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে। এগুলো হলো:
ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড
গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড
এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড
এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১
এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১
এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড
অবৈধ বিনিয়োগ ও ফেরত আনার নির্দেশ
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে বিনিয়োগ করা ৪৯ কোটি টাকা সুদসহ ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। যদি কোম্পানি এই নির্দেশ না মানে, তবে সর্বোচ্চ ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা হয়েছে।
পরিচালকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
এই কেলেঙ্কারিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএসইসি ইতোমধ্যে কঠোর আর্থিক জরিমানা ঘোষণা করেছে—
রিয়াজ ইসলাম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা): ৫০ কোটি টাকা
জর্জ স্টক (পরিচালক): ৪ কোটি টাকা
মনোয়ার হোসেন (সাবেক লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স প্রধান): ৪ কোটি টাকা
রোনাল্ড মিকি গোমেজ (প্রধান অর্থ কর্মকর্তা): ১ কোটি টাকা
ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
পূর্ব ইতিহাস ও গুরুত্ব
উল্লেখ্য, এটি এলআর গ্লোবালের প্রথম অনিয়ম নয়। ২০১৫ সালেও ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল বিএসইসি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের কড়া পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


