নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ লোপাট ও বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগের অভিযোগে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামসহ ছয় পরিচালককে ১ কোটি টাকা করে, মোট ৬ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ফান্ড তদারকিতে ব্যর্থতা এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের দায়ে আরও তিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ মোট ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএসইসি সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং রিয়াজ ইসলামকে আজীবন শেয়ারবাজারের সকল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৭৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কমিশনের মুখপাত্র ও পরিচালক মো. আবুল কালাম এক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।
? বিনিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম
বিএসইসি জানায়, এলআর গ্লোবাল পরিচালিত ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডে (বর্তমানে কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড)।
১০ টাকার অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার কেনা হয় ২৮৯ টাকা ৪৮ পয়সা দরে, অথচ তখন কোম্পানিটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ঋণাত্মক ২ টাকা ৭৪ পয়সা। সেই সময়ে ডিএসইর ওটিসি মার্কেটে ওই শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ১৩ টাকা ৬০ পয়সা।
এই বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগের ফলে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিএসইসি ছয়টি ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করা ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সুদসহ মোট ৯০ কোটি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না এলে রিয়াজ ইসলামকে অতিরিক্ত ৯৮ কোটি টাকা, জর্জ এম. স্টক থ্রিকে ১ কোটি টাকা এবং রেজাউর রহমান সোহাগকে ১ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১ লঙ্ঘনের দায়ে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশকে এই ছয় ফান্ডের অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে অপসারণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
⚖️ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের তৎকালীন ছয় পরিচালককে প্রতি জন ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে— যেমন প্রাইস সেনসেটিভ তথ্য গোপন, ইজিএম না করা এবং লক-ইন শেয়ার না রাখা।
এছাড়া, ফান্ড তদারকিতে ব্যর্থতার দায়ে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি)-কে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রেজাউর রহমান সোহাগকে মিথ্যা তথ্য প্রদানের কারণে ১০ লাখ টাকা এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আহসানকে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করার কারণে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
? মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকে রেফার
বিএসইসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ৫২ টাকা ২৫ পয়সা দরে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় থাইরোকেয়ার বাংলাদেশ লিমিটেডে বিনিয়োগ করে।
তৎকালীন এমডি এরশাদ হোসেন ও রিয়াজ ইসলাম এই বিনিয়োগে যোগসাজশের মাধ্যমে শেয়ার মূল্যায়ন করে মানি লন্ডারিং সংঘটিত করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ কারণে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে অধিকতর তদন্তের জন্য।
অন্যদিকে, কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের ২০২৩ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গাফিলতির কারণে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান শফিক বসাক অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) পাঠানো হয়েছে।


