অর্থ সংকটে জিকিউ বলপেনের বিএমআরই প্রকল্পে স্থবিরতা, আমদানি জটিলতায় বড় বাধা

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩, ২০২৫ ৭:৫২:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  অর্থায়ন সংকট, আমদানি জটিলতা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনে কারখানা সংস্কারের অগ্রগতি থমকে গেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ-এর। ‘ইকোনো বলপেন’ ব্র্যান্ডের জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের কারখানা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেয়া প্রায় ৯ কোটি টাকার বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন) প্রকল্পটি এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাঠানো এক চিঠির জবাবে জিকিউ বলপেন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করে জানায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই প্রকল্প ঘোষণা করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযুক্তি উন্নয়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে লাভের ধারায় ফেরা।

তবে ঘোষণার পরপরই একাধিক প্রতিবন্ধকতা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমত, ব্যাংক থেকে প্রত্যাশিত ঋণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, ভারত থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির উপর নির্ভরতা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের পর ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হলে ভারতীয় ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রকল্পের অগ্রগতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

জিকিউ বলপেন জানায়, কারখানার প্ল্যান্ট ম্যানেজার একাধিকবার ভারতীয় ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এর ফলে ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও আমদানির আলোচনাও সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে জার্মানি ও চীন থেকে যন্ত্রপাতি আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও কোম্পানিটি সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক অর্ডার ও অল্পসংখ্যক কর্মী দিয়ে সংগঠন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। উল্লেখযোগ্য যে, গত এক দশকে কোম্পানিটির বিক্রয় আয় ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ২০১৩ সালে যেখানে জিকিউ বলপেনের বিক্রয় ছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ কোটি টাকায়।

বাজারে বলপেন খাতে ম্যাটাডোরের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলো শক্ত অবস্থান গড়ে তোলায় জি কিউ বলপেন এখন প্রান্তিক খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে। তা সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা আশাবাদী যে, রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক হলে এবং অর্থায়নের পথ সুগম হলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা কাজী সালিমুল হক কামাল (কাজী কামাল) একাধিকবার বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৪-৯৬ ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে মাগুরা-১ আসন থেকে এমপি ছিলেন।

Share
নিউজটি ১৩৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged