নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও লাভ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড। সেই আশ্বাসে ভর করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে তালিকাভুক্তির মাত্র দুই বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি মুনাফা থেকে লোকসানে চলে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অতিরঞ্জিত আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। আইপিওর আগে প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও তালিকাভুক্তির পর থেকেই বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর এক পরিচালক বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম আর্থিক তথ্য দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার রমেন্দ্র নাথ বসাক একমি পেস্টিসাইডসের আর্থিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। একই নিরীক্ষক একই সময়ে সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলসের ভিন্ন দুটি আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করে উভয়টিকেই সঠিক বলে সনদ দেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ঘটনার জেরে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) তার নিরীক্ষা কার্যক্রমে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
কোম্পানির আইপিও প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ৯৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ১৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় পৌঁছায়। একই সময়ে নিট মুনাফা ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়।
তবে তালিকাভুক্তির পর আর্থিক চিত্রে পরিবর্তন আসে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় বেড়ে ১৫৯ কোটি ১১ লাখ টাকা হলেও মুনাফা কমে ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় নেমে আসে।
এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এ সময়ে বিক্রয় আয় প্রায় ২৪ শতাংশ কমে ১৫৯ কোটি ১১ লাখ টাকা থেকে ১২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। একই সঙ্গে নিট মুনাফা কমে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় নেমে আসে, যা প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস।
পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি লোকসানে পড়ে এবং মোট ক্ষতি দাঁড়ায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসান আরও বেড়ে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১৪ পয়সা হিসেবে মোট ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছায়। চলতি অর্থবছরেও এই লোকসানের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া একমি পেস্টিসাইডসের পরিশোধিত মূলধন ১৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৮ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ সোমবার (৬ এপ্রিল) কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ২০ পয়সা।


