আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে সমন্বিত উদ্যোগে ডিএসই-বিএপিএলসি

সময়: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫ ২:২৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনায় উভয় পক্ষ বাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়।

আলোচনায় উঠে আসে— আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করা, বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমস্যা সমাধান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিএসইর প্রতিশ্রুতি
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “ডিএসই ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি জানান, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির অভিযোগগুলো ডিএসই নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পেশ করছে।

তিনি আরও স্বীকার করেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবহেলার কারণে শেয়ারবাজার দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। তবে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ, বাজেট সংস্কার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) ড. আনিসুজ্জামানের তত্ত্বাবধানের ফলে বাজারে এখন নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান আরও জানান, সংশোধিত আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধু ভালো উদ্যোক্তারাই বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন। “গ্রিন চ্যানেল ও ডিজিটাইজেশনের ফলে দ্রুত আইপিও অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে।” একইসঙ্গে, হাইব্রিড বা ডিজিটাল এজিএম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ডিএসই-বিএপিএলসি’র সহযোগিতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিএপিএলসি’র অবস্থান
অন্যদিকে বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রূপালি হক চৌধুরী বলেন, “তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, দেশের শেয়ারবাজারকে বড় করতে নতুন আইডিয়া ও বিজনেস প্ল্যান দেখে ছোট কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনা জরুরি।

এছাড়া, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কমপ্লায়েন্স সহজ করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। রূপালি হক মনে করেন, শুধু সমস্যার আলোচনা নয়, বরং সমাধানমুখী উদ্যোগই বাজারকে এগিয়ে নিতে পারে।

আলোচনার প্রধান বিষয়
এই সভায় লিস্টিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, কর নীতি সংস্কার, আইপিওর দীর্ঘসূত্রিতা নিরসন, গ্রিন চ্যানেল প্রবর্তন, ডিজিটাল রিপোর্টিং সিস্টেম, এবং তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর বৈষম্য দূরীকরণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

সভায় ডিএসই ও বিএপিএলসি একমত হয় যে, কেবল গঠনমূলক সহযোগিতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই শেয়ারবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।

 

 

Share
নিউজটি ২৬১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged